লন্ডনের রাস্তায় রোবোট্যাক্সি বা স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি চালুর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা আপাতত থমকে গেছে। ব্রিটিশ সরকারের নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী এ বছর সেবাটি চালুর কথা থাকলেও, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় তা পিছিয়ে যাচ্ছে।
কয়েক সপ্তাহ আগেই উবার এবং লন্ডনভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়েভকে রাজধানীতে মিনিক্যাব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। এর আওতায় তারা যাত্রী পরিবহনের অনুমতি পায়, তবে শর্ত ছিল গাড়িতে একজন নিরাপত্তা চালক উপস্থিত থাকতে হবে। কোম্পানি দুটি জানিয়েছিল, তারা ‘এই গ্রীষ্মের শেষের দিকে’ যাত্রী পরিবহন শুরু করবে।
২০২৫ সালে পরিবহন মন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি সেবার বাণিজ্যিক ট্রায়ালের সময়সীমা এক বছর এগিয়ে এনেছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, এই বসন্তেই ট্রায়াল শুরু হবে। তবে বাস্তবে অগ্রগতি বেশ ধীর। ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) এখন পর্যন্ত সেই নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি, যা মেনে কোম্পানিগুলোকে সেবা পরিচালনার অনুমোদন নিতে হবে।
টিএফএল-এর কৌশলগত পরিচালক ক্রিস্টিনা ক্যালডেরাটো গত মাসে লন্ডনের অ্যাসেম্বলি ট্রান্সপোর্ট কমিটিকে জানিয়েছেন, ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ এখনই আবেদন গ্রহণ করার মতো অবস্থায় নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নীতিমালা দ্রুত প্রকাশের কোনো তাড়া তাদের নেই, কারণ পর্দার আড়ালে অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
উবার ও ওয়েভ জানিয়েছে, তাদের স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি সেবার জন্য লন্ডনের এক লাখেরও বেশি মানুষ অপেক্ষায় রয়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের ২০টিরও বেশি শহরে রোবোট্যাক্সি সেবা চালু রয়েছে। এই বাজারে নিজেদের অবস্থান পাকা করতে উবার ও ওয়েভ গুগল-মালিকানাধীন ওয়েমো এবং চীনের বাইডুর অ্যাপোলো গো-এর সাথে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
ওয়েমোর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ বিষয়ক নীতি প্রধান বেন লোয়েনস্টাইন জানিয়েছেন, তারা পরিবহন বিভাগের সাথে নিরাপত্তা অনুমোদন প্রক্রিয়ার কাজ করছেন এবং টিএফএল-এর নির্দেশিকার অপেক্ষায় আছেন। ওয়েমো এই বছরের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সেবা চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলেও, সাধারণ মানুষের জন্য তা কবে উন্মুক্ত হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলেননি।
টিএফএল ইতিমধ্যে ওয়েভের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সফটওয়্যার, রাডার ও ক্যামেরা সমৃদ্ধ ১৫টি ফোর্ড মাস্তাং মাচ-ই গাড়ির জন্য প্রাইভেট হায়ার লাইসেন্স দিয়েছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে চালকের আসনে একজন টিএফএল-অনুমোদিত চালক থাকবেন, যিনি প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।
ওয়েভের প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স কেন্ডাল জানিয়েছেন, তারা কখনোই এ বছর সম্পূর্ণ চালকবিহীন সেবা চালুর দাবি করেননি। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার জন্য তারা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে চান না। তার মতে, ফিনিক্স বা সান ফ্রান্সিসকোর তুলনায় লন্ডনের রাস্তা অনেক বেশি জটিল।
বাইডু গত মাসের শেষে লন্ডনে তাদের গাড়ির পরীক্ষা শুরু করেছে এবং আগামী বছর সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে। এদিকে, চালকবিহীন ট্যাক্সি পরিচালনার জন্য ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সির (ডিভিএসএ) মাধ্যমে নতুন অনুমোদনের প্রয়োজন, যা এখনো কোনো কোম্পানি পায়নি। সব মিলিয়ে, উবার ও ওয়েভের গ্রীষ্মকালীন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া এখন প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।

