পুলিশে পদায়ন ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম। তিনি তার পোস্টে লিখেছেন, “আমি সংযুক্ত: আমার কাজ আর বাংলাদেশ পুলিশের প্রয়োজন নেই।” দীর্ঘ ১৫ বছরের কর্মজীবনে নয় বছরই তাকে ‘ডাম্পিং পোস্টিংয়ে’ রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সততা, স্বচ্ছতা এবং নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করেও এমন পরিণতি মেনে নেওয়া কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রেজাউল করিম আরও বলেন, “এই ডিপার্টমেন্ট আমার জন্য নয়।” তার মতে, পুলিশ বিভাগে যারা সত্য কথা বলেন, সাহস দেখান এবং নিয়ম মেনে কাজ করেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ পদায়ন প্রক্রিয়া ও মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়ে তার এই মন্তব্য এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মো. রেজাউল করিম ২৯তম বিসিএস ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। ২০১১ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের পর সারদায় প্রশিক্ষণ শেষ করে তার প্রথম কর্মস্থল ছিল মুক্তাগাছা এপিবিএন। এরপর তিনি ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন, এভসেক, ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার এবং কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তাকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তার সংযুক্তির আদেশ এবং পরবর্তী ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বাহিনীটির অভ্যন্তরীণ পদায়ন ও কাজের পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাকে কেন বা কী কারণে সংযুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ বা ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তার এই সাহসী ও আবেগঘন পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১১ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়ার পর সারদার প্রশিক্ষণ শেষে তার প্রথম পোস্টিং হয় মুক্তাগাছা এপিবিএনে।

