পূর্ণিমার স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নায় বারান্দা যখন ভেসে যাচ্ছে, তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে শরতের মেঘমুক্ত নীল আর সাদার মিতালি চোখে পড়ে। এই শান্ত পরিবেশে স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে ফেলে আসা দিনের অনেক কথা। মা একসময় বাবাকে বলেছিলেন, মেয়ে বড় হচ্ছে, তাকে স্কুলে ভর্তি করানো প্রয়োজন। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই হয়তো পরিণয়সূত্রে নিজেদের বেঁধে ফেলেছিলেন তারা। কিন্তু সেই সম্পর্কের ভেতরেও যেন এক আহত পাখির মতো ডানা ঝাপটানো অস্থিরতা ছিল, যা আজও মনের কোণে ক্ষত তৈরি করে।
একবার এক খালা তাদের কুয়াতলার কাছে পেয়ে বলেছিলেন, বালতিতে পানি আছে, হাত-মুখ ধুয়ে নাও। খালা মাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, বুবু, তুমিও ফ্রেশ হয়ে নাও, আমি সবার জন্য খাবার নিয়ে আসছি। কিন্তু বাবা খালাকে ব্যস্ত হতে নিষেধ করে বলেছিলেন, আপনি কষ্ট করবেন না, আমি ওদের নিয়ে ঢাকা শহর ঘুরিয়ে আনব। খালা তখন রাতে খাওয়ার অনুরোধ জানালেও বাবা তা বিনয়ের সাথে এড়িয়ে গিয়ে বলেছিলেন, আপনি কিছু করবেন না, আমরা বাইরে খেয়ে নেব।
সেই ভ্রমণের এক পর্যায়ে মা এক কাপ চায়ের কথা বলেছিলেন। বাবা তখন লোকটিকে দাম মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। মা বলেছিলেন, এবার যাওয়া যাক, পরে দেখা যাবে। খাবারের আয়োজন নিয়ে এক পর্যায়ে ভাবি বলেছিলেন, দুলাভাই, এই মালা আমার কণ্ঠে মানাবে না, কারণ এতে মিশে আছে দীর্ঘ নিঃশ্বাস। ভাবি জয়াকে ডেকে বলেছিলেন, তোমাকে একটা কথা বলার আছে। জামিল ভাই তখন জানতে চেয়েছিলেন, কী কথা? বুবু মন্তব্য করেছিলেন, এটি তো রবীন্দ্রসংগীত। জয়াকে উদ্দেশ্য করে বুবু বলেছিলেন, তুই যাস না। ভাবিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন জামিলকে ছোট করা হলো? প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায় চাঁদের আলোতে ভরে গেছে বারান্দা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পায়ে পায়ে বারান্দায় যাই, আকাশের দিকে তাকাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শরতের মেঘমুক্ত আকাশ সাদা আর নীলে মাখামাখি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুলোতে চাঁদের আলোয় ভরিয়ে তুলেছে দিগন্ত, তারারা সব মিটমিট করে লুকোচুরি করে বেড়াতে আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি আর ভাবি, তারারা আপন মনে মালা গেঁথে চলছে, কোনো ঝগড়া-বিদ্বেষ নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সোনার কাঁথা মোড়ানো সকাল, অলস দুপুর, নিস্তব্ধ বিকাল-কোথায় হারিয়ে গেল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছেলে দুইটা বড় হচ্ছে, ওদের স্কুলে দেওয়া দরকার।

