হাউজিং সংকট মোকাবিলায় মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নতুন বিল পাস

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতের সংকট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে দ্বিদলীয় সমর্থনে পাস হয়েছে। ৩৯৬-১৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পাস হওয়া এই বিলটি মূলত মার্চ মাসে সিনেটে অনুমোদিত ‘২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট’-এর একটি সংশোধিত সংস্করণ। এই আইনটি কার্যকর হলে তা কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় ফেডারেল আবাসন সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রস্তাবিত এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো আবাসন নির্মাণে ঋণের পরিধি বাড়ানো, স্থানীয় সরকারগুলোকে নির্মাণ অনুমোদনের নিয়ম সহজ করতে উৎসাহিত করা, ম্যানুফ্যাকচারড বা কারখানায় তৈরি বাড়ির সরবরাহ বাড়ানো এবং একক পরিবারের বাড়ি কেনায় ওয়াল স্ট্রিটের আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ করা। তবে বিলটি নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে সমন্বয় করতে হবে।

সিনেট ব্যাংকিং কমিটির নেতা সিনেটর টিম স্কট এবং এলিজাবেথ ওয়ারেন এখন প্রতিনিধি পরিষদের এই নতুন সংস্করণ নিয়ে উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সাথে আলোচনা করবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে সিনেটের বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, এই পদক্ষেপটি নিশ্চিত করবে যে বাড়িগুলো কর্পোরেশনের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য।

সিনেটের মূল প্রস্তাবে ৩৫০টির বেশি একক পরিবারের বাড়ির মালিক এমন বিনিয়োগকারী বা কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া ‘বিল্ড-টু-রেন্ট’ বা ভাড়ার জন্য বাড়ি নির্মাণের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পকে লক্ষ্য করে ডেভেলপারদের সাত বছরের মধ্যে বাড়িগুলো বিক্রির বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া নতুন বিলে এই কঠোর শর্তগুলো কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদের বিলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাড়ি কেনার ওপর সাধারণ সীমাবদ্ধতা বজায় রাখা হলেও, ‘বিল্ড-টু-রেন্ট’ বা সংস্কার করে ভাড়া দেওয়ার মতো সম্পত্তি বিক্রির বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে, বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন বাড়িতে বসবাসকারী ভাড়াটিয়াদের জন্য একটি হটলাইন চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ হোম বিল্ডার্স এবং মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ ১১টি জাতীয় আবাসন সংস্থা এই বিল পাসের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানায়, বিলটি নিখুঁত না হলেও এটি বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসন প্রস্তাব। তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, চূড়ান্ত পর্যায়ে যেন ‘বিল্ড-টু-রেন্ট’ খাতের বাড়িগুলো এবং সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

বিলটিতে পরিবেশগত পর্যালোচনার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অফিস ভবনকে আবাসিক ভবনে রূপান্তরের জন্য অনুদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ম্যানুফ্যাকচারড বাড়ির সরবরাহ বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, এসব বাড়ি পরিবহনের জন্য স্থায়ী চ্যাসিস বা চাকাযুক্ত ভিত্তি থাকা বাধ্যতামূলক ছিল, যা নির্মাণ খরচ বাড়িয়ে দিত।

বাইপার্টিজান পলিসি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, উভয় বিল থেকেই এই চাকাযুক্ত ভিত্তি বা চ্যাসিসের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রতিটি বাড়ির খরচ ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত কমাতে পারে। এছাড়া ম্যানুফ্যাকচারড বাড়ির মালিকদের জন্য প্রচলিত মর্টগেজ ঋণ পাওয়া সহজ করার লক্ষ্যও এই বিলের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।