দখলকৃত পশ্চিম তীরে নিজের বাড়ি রক্ষায় ওহাইও থেকে ছুটে এলেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লুই রিদি

ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লুই রিদি ওহাইওতে নিজের বাড়িতে বসে নিরাপত্তা ক্যামেরার মাধ্যমে দেখছিলেন, কীভাবে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে তার বাড়িটি ঘিরে রেখেছে। টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই অবরোধের পর ৪৬ বছর বয়সী রিদি রয়টার্সকে জানান, তিনি আর দূরে বসে থাকতে পারেননি। নিজের জন্মভিটা এবং বাড়িটি উদ্ধারের আশায় তিনি তেল আবিবের উদ্দেশ্যে উড়াল দেন।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর দখল করা নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নতুন বসতি স্থাপনের ঘোষণা এবং বিদ্যমান বসতিগুলোকে বৈধতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এই অস্থিরতার জন্য দায়ী বসতি স্থাপনকারীদের সরাসরি ‘সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করেছেন।

কুসরা গ্রামে শান্তি বজায় রাখার অজুহাতে ইসরায়েলি সেনাদের মোতায়েন করা হলেও, এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হওয়ার পরও বসতি স্থাপনকারীরা এলাকাটি ছাড়েনি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা এখনো ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। মানবাধিকার সংস্থা বি’সেলেম (B’Tselem) জানিয়েছে, বসতি স্থাপনকারী, পুলিশ এবং সেনাদের যৌথ অংশগ্রহণে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে।

তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর রিদি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি আমার চোখের সামনে বসতি স্থাপনকারীদের বাড়ি চুরি করতে দিতে পারি না।’ এরপর রয়টার্সের সাংবাদিকরা তার সাথে কুসরা গ্রামে যান। পাহাড়ের ওপর অবস্থিত নিজের বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় পথে বেশ কয়েকজন বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি সেনাকে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত একটি ইসরায়েলি সামরিক যানের সহায়তায় তিনি তার পৈতৃক ভিটায় পৌঁছান এবং বাড়ির ছাদে উঠে একটি আমেরিকান পতাকা ওড়ান।

রিদি বলেন, ‘বসতি স্থাপনকারীদের এখানে থাকা উচিত নয়।’ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরের সব ইসরায়েলি বসতি অবৈধ। তবে নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকার, যেখানে অতি-জাতীয়তাবাদী ও বসতি-পন্থী মন্ত্রীরা রয়েছেন, তারা এই বসতি স্থাপনকে উৎসাহিত করছে। যদিও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক এই অবস্থান মানতে নারাজ এবং তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী অধিকাংশ বসতিকে বৈধ বলে দাবি করে আসছে।

২০২৩ সালে নিজের পারিবারিক জমিতে রিদি এই বাড়িটি নির্মাণ শুরু করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল নিজের সন্তানদের শেকড়ের সাথে যুক্ত রাখা। বর্তমানে তার ভাই কুসাই এবং এক ভাতিজা বাড়িটি রক্ষায় ভেতরে অবস্থান করছেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, কুসরা গ্রামে রিদির পরিবারের মতো আরও ১৫ জন ফিলিস্তিনি, যার মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে, বিদ্যুৎ ও পানিহীন অবস্থায় বসতি স্থাপনকারীদের অবরোধে আটকা পড়ে আছেন।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১৫ শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই সহিংসতা আরও বেড়েছে বলে মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন।

পরবর্তী পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে রিদি বলেন, তিনি এখন শুধু তার ভাইয়ের সাথে বসে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে চান এবং পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিতে চান।