নাসার সুইফট মানমন্দিরকে কক্ষপথে ফিরিয়ে আনার জন্য পাঠানো ‘লিংক’ (LINK) স্যাটেলাইটটি তার নির্ধারিত উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করতে পারছে না। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং ক্যাটালিস্ট স্পেস টেকনোলজিস বুধবার জানিয়েছে যে, স্যাটেলাইটটিতে চলমান অ্যাটিটিউড কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সুইফটকে উচ্চতর কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।
প্রায় ২২ বছর আগে উৎক্ষেপিত নীল গেহরলস সুইফট অবজারভেটরি বর্তমানে উচ্চতা হারিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে নেমে আসছে। অ্যারিজোনা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটালিস্ট স্পেস টেকনোলজিস এই মানমন্দিরটিকে রক্ষার লক্ষ্যে লিংক স্যাটেলাইটটি তৈরি করেছিল। গত ৩ জুলাই নর্থরপ গ্রুম্যান পেগাসাস এক্সএল রকেটের মাধ্যমে এটি মহাকাশে পাঠানো হয়। উৎক্ষেপণের কয়েক সপ্তাহ পরেই স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঘুরতে শুরু করে। যদিও ক্যাটালিস্ট পরে এর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছিল, তবে এই সমস্যার কারণে সুইফটের সাথে সংযোগ স্থাপনের সময় প্রায় এক মাস পিছিয়ে যায়।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মহাকাশ গবেষণায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যা এই মিশনের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। যদিও ফলাফলটি প্রত্যাশিত নয়, তবে এই মিশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সুইফট মানমন্দিরটি মহাকাশে মেরামতের উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি। বর্তমানে বায়ুমণ্ডলীয় টান এবং সৌর সক্রিয়তার প্রভাবে এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। নাসা জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই মানমন্দিরের বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যাবে।
মিশনটি পুরোপুরি ব্যর্থ না করে, লিংক স্যাটেলাইটটিকে এখন সুইফটের কাছে পাঠিয়ে একটি প্রদর্শনমূলক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে মহাকাশে স্যাটেলাইট সার্ভিসিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ক্যাটালিস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঘোনহি লি জানিয়েছেন, তারা এই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন, যা ভবিষ্যতে মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি কার্যকর গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।
নাসার সদর দপ্তরের অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ডিভিশনের পরিচালক শন ডোমাগাল-গোল্ডম্যান বলেন, সুইফট থেকে আরও বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়ার আশা ছিল, কিন্তু এই মিশনের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতাগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। সুইফটের অনুপস্থিতিতে নাসা তাদের অন্যান্য সক্রিয় মানমন্দিরের মাধ্যমে মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে।
এই মিশনটি যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং নতুন উপায়ে মহাকাশে সেবা প্রদানের প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করেছে। নাসা তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের সাথে নিয়ে মহাকাশ গবেষণার সীমানা আরও প্রসারিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

