পোষা কুকুরের জন্য খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইয়ার্স’ (Years) তাদের সব ধরনের ফ্রেশ মিল বাজার থেকে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি তাদের খাবারে রেসিপি পরিবর্তনের পর বেশ কিছু কুকুরের চোখের গুরুতর সমস্যা দেখা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই সমস্যার কারণে অনেক ক্ষেত্রে কুকুর অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের গ্রাহকদের অবিলম্বে এই খাবার খাওয়ানো বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া এই খাবার অন্য কোনো প্রাণীকে না খাওয়ানো, বিক্রি না করা বা দান না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ইয়ার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি সতর্কতামূলক স্বেচ্ছাসেবী পদক্ষেপ।
ইয়ার্স মূলত সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক সেবা প্রদান করে, যেখানে কুকুরের জন্য কাস্টমাইজড খাবার সরবরাহ করা হয়। এছাড়া ‘পেটস অ্যাট হোম’-এর মতো খুচরা বিক্রেতাদের কাছেও তাদের পণ্য পাওয়া যায়। বুধবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ১৯২ জন তাদের পোষা প্রাণীর চোখের সম্ভাব্য সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এর আগে রবিবার পর্যন্ত ৫৭টি সন্দেহভাজন কেস পাওয়ার কথা জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
কুকুরের এই চোখের সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সাডেন বাইল্যাটারাল ড্রাই আই’ (Sudden bilateral dry eye) বলা হয়। এটি মূলত কেরাটোকনজাংটিভাইটিস সিকা (KCS) নামে পরিচিত। রয়্যাল কেনেল ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, এই রোগে আক্রান্ত কুকুরের চোখ দিয়ে পানি পড়া বন্ধ হয়ে যায়, ফলে চোখ অত্যন্ত শুষ্ক ও ব্যথাময় হয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।
ইয়ার্সের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের তদন্তে খাবারে ব্যবহৃত ‘বাকহুইট’ (buckwheat) নামক উপাদানটি চোখের সমস্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কয়েক মাস আগে রেসিপিতে এই উপাদানটি যুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ও ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে বাকহুইট সরবরাহে কোনো ধরনের দূষণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চোখের সমস্যার বিষয়ে চিকিৎসকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। কিছু চক্ষু বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন যে কুকুরগুলো চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিচ্ছে, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে উন্নতির গতি বেশ ধীর। ইয়ার্সের দাবি, এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে গ্রাহকদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ইয়ার্স ড্রাই আই কেসেস’ নামে একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে, যেখানে বুধবার সকাল পর্যন্ত ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি সদস্য যুক্ত হয়েছেন। সেখানে অনেক মালিক তাদের কুকুরের চোখের সমস্যার ছবি ও বিবরণ পোস্ট করছেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আলাদা একটি গ্রুপও তৈরি করেছেন।
লন্ডনভিত্তিক ২৩ বছর বয়সী এক গ্রাহক, যিনি দুই বছর ধরে ইয়ার্সের সেবা নিচ্ছেন, তিনি জানান যে ফেসবুক গ্রুপটিতে প্রতি ঘণ্টায় নতুন নতুন অভিযোগ জমা পড়ছে। তবে ইয়ার্সের মুখপাত্র দাবি করেছেন, ফেসবুক গ্রুপে থাকা সবাই তাদের প্রকৃত গ্রাহক নন এবং সেখানে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
ইয়ার্স তাদের ওয়েবসাইট থেকে বাকহুইট সংক্রান্ত একটি পুরনো ব্লগ পোস্ট সরিয়ে ফেলেছে যাতে গ্রাহকদের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং কঠোর ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে এই সমস্যাটি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইয়ার্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সব ফ্রেশ মিলের সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

