ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া সংক্ষিপ্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের চলমান যৌথ মহড়া সংক্ষিপ্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের কয়েক দিন পর উভয় দেশের কর্মকর্তারা বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। মূলত ট্রাম্পের নির্দেশেই এই মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ আগেই শুক্রবার শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে শুরু হওয়া ১১ দিনব্যাপী ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়াটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে সংকুচিত করা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে তার সুসম্পর্ক এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের নির্দেশে মহড়াটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে সরাসরি প্রশিক্ষণের অনেক ইভেন্ট বাতিল করা হয়েছে অথবা সেগুলোকে কম্পিউটার সিমুলেশনে রূপান্তর করা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ দাবি করেছে যে, এই পরিবর্তনের ফলে তাদের প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ও প্রস্তুতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন অনুরোধেই মহড়ার সময়সীমা কমানো হয়েছে এবং কিছু ফিল্ড ট্রেনিং বা মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণও সীমিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশ যৌথ মহড়ার লক্ষ্য অর্জন এবং সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানানো হয়েছে।

উলচি ফ্রিডম শিল্ড মূলত একটি কম্পিউটার-সিমুলেটেড কমান্ড পোস্ট মহড়া, যা উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের মতো আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় মিত্রদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়ান যুদ্ধের সময় থেকে চলে আসা এই মহড়াগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার জোটের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে এই মহড়াগুলো উত্তর কোরিয়ার জন্য দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণ। পিয়ংইয়ং নিয়মিতভাবে এগুলোকে যুদ্ধের মহড়া হিসেবে অভিহিত করে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় প্রায়ই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে থাকে। বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ এই মহড়াকে ‘উন্মাদনা’ ও ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে সমালোচনা করেছে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ দুই দেশের সামরিক প্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং দীর্ঘদিনের এই জোটকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কারণে ট্রাম্পের এই আহ্বানে সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা কম, যদি না তাকে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ট্রাম্প ও কিম তিনবার সাক্ষাৎ করলেও উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের শর্ত নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে তাদের কূটনৈতিক আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল।