যুক্তরাজ্য বর্তমানে এমন সব দেশের ওপর খাদ্য আমদানির জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যারা নিজেরাই জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ফুড ফাউন্ডেশনের বুধবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, এই নির্ভরতা ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি এবং মূল্যস্ফীতির কারণ হতে পারে।
বর্তমানে ব্রিটেনের মোট খাদ্যের প্রায় ৪০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ফলের ক্ষেত্রে আমদানির হার ৮০ শতাংশ এবং সবজির ক্ষেত্রে ৪৭ শতাংশ। ইউরোপের অন্যান্য বড় দেশ যেমন ফ্রান্স, জার্মানি বা স্পেনের তুলনায় যুক্তরাজ্যের এই আমদানিনির্ভরতা অনেক বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে স্বাস্থ্যকর প্রধান খাদ্য সরবরাহকারী শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে ১৮টিই (৯০ শতাংশ) জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মাঝারি থেকে তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্যানেল (আইপিসিএস) সতর্ক করেছে যে, যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে উচ্চ তাপমাত্রা ফসলের ফলন কমিয়ে দেবে এবং ফল ও সবজির গুণমান নষ্ট করবে। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে এই প্রভাব বেশি পড়বে।
যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন এবং খাদ্যাভ্যাসের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে মনে করছে ফুড ফাউন্ডেশন। দেশটির জনপ্রিয় নয়টি ফলের মধ্যে পাঁচটিই স্থানীয়ভাবে চাষ করা সম্ভব। এর মধ্যে আপেল, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, রাস্পবেরি ও নাশপাতি অন্যতম। তবে এর মধ্যে চারটি ফলের ক্ষেত্রে মোট চাহিদার ৪০ শতাংশেরও কম অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত হয়।
সবজির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। গাজরের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ৯৪ শতাংশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে টমেটো, মাশরুম, মরিচ, শসা, পেঁয়াজ, ব্রোকলি ও সবুজ মটরশুঁটির মতো জনপ্রিয় সবজির ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদার মাত্র অর্ধেক পূরণ করতে পারে।
ফুড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আনা টেলর বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে পুষ্টিকর খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা অনেক মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই এই পরিস্থিতি এড়াতে সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
কৃষকরাও উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী, তবে তারা সরকারি নীতিতে নিশ্চয়তা চান। ওরচেস্টারশায়ারের আপেল ও হপস খামারের মালিক এবং ব্রিটিশ অ্যাপল অ্যান্ড পিয়ার্স ট্রেড বডির চেয়ার আলি ক্যাপার জানান, কৃষকদের জন্য মৌসুমী শ্রমিকদের সহজলভ্যতা, পানির নিশ্চয়তা, সুপরিকল্পিত নীতিমালা এবং জ্বালানির দাম সহনীয় রাখা জরুরি। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী বাজার নিশ্চয়তা পেলে তারা উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবেন।
চলতি বছর যুক্তরাজ্য নিজেই পাঁচটি তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের কবলে পড়েছে, যা স্থানীয় ফসলের ফলন কমিয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিকের অভাব এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী ভর্তুকি পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ব্রিটিশ কৃষকরা। এখন খাদ্য উৎপাদনকারীরা সরকারের কাছে আসন্ন উদ্যানপালন খাত উন্নয়ন পরিকল্পনায় এসব সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

