আসন্ন শীত মৌসুমে ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের জ্বালানি বিল প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কনওয়াল ইনসাইট-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া সরকারি প্রাইস ক্যাপ বা মূল্যসীমা অনুযায়ী, সাধারণ পরিবারের বার্ষিক জ্বালানি ব্যয় ১,৭২৯ পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে। এটি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা।
জ্বালানি খাতের এই ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং ইউরোপজুড়ে দাবদাহের সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট বাজার অস্থিরতাকে দায়ী করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নতুন প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ভ্যাট ছাড়ের প্রতিশ্রুতিকেও অনেকটা অর্থহীন করে তুলছে। বিদ্যুৎ বিলে ভ্যাট কমিয়ে বছরে গড়ে ৪৫ পাউন্ড সাশ্রয়ের যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, জ্বালানির বর্ধিত দাম সেই সুবিধা পুরোপুরি মুছে ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কনওয়াল ইনসাইট-এর প্রধান পরামর্শক ক্রেইগ লোরে বলেন, জ্বালানি বিলের এই বৃদ্ধি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, হাজার মাইল দূরের ঘটনাও কীভাবে ব্রিটেনের জ্বালানি খরচকে প্রভাবিত করে। তিনি আরও বলেন, সাময়িক ভ্যাট ছাড় কিছুটা স্বস্তি দিলেও, প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানির ওপর ব্রিটেনের অতি-নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ববাজারে দামের অস্থিরতা থাকলে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই যায়।
আগামী বুধবার জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফগেম নতুন প্রাইস ক্যাপ নির্ধারণ করবে। সংস্থাটি মূলত পাইকারি বাজারের গড় খরচের ওপর ভিত্তি করে প্রতি ইউনিট গ্যাস ও বিদ্যুতের সর্বোচ্চ দাম ঠিক করে। বিশ্লেষকদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ডাইরেক্ট ডেবিটের মাধ্যমে বিল পরিশোধকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম কিলোওয়াট প্রতি ২৬.১১ পেন্স থেকে বেড়ে ২৬.৫৭ পেন্স এবং গ্যাসের দাম ৭.৩৩ পেন্স থেকে বেড়ে ৭.৯০ পেন্স হতে পারে।
নতুন হিসাব পদ্ধতিতে বার্ষিক দ্বৈত জ্বালানি বিল ১,৭২৯ পাউন্ডে দাঁড়াবে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আগের পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই বিল ১,৯৪০.৬৯ পাউন্ডে পৌঁছাত, যা জুলাইয়ের তিন মাসের তুলনায় বেশি। ক্রেইগ লোরে সতর্ক করে বলেছেন, শীতের আগে এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য, বিশেষ করে যারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তাদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জ্বালানি প্রধান জেস রালস্টন এই পরিস্থিতিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পরবর্তী প্রথম গ্যাস সংকটের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি জানান, পাইকারি গ্যাসের দাম প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে বিল আরও বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
জেস রালস্টন আরও উল্লেখ করেন যে, ঘর গরম রাখার জন্য ব্রিটেনের গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। যদিও ইলেকট্রিক হিট পাম্পের ব্যবহার বাড়ছে, তবুও গ্যাস নির্ভরতা কমাতে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় ব্রিটেন এখনো পিছিয়ে আছে। বর্তমান বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় জানুয়ারি মাসেও বিল আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

