কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ভোরে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তবে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হওয়ায় তা তিন দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নথিপত্র চূড়ান্ত হওয়ার সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই শুল্কের আওতায় হকি স্টিক থেকে শুরু করে ওয়াইন পর্যন্ত ডজনখানেক পণ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। যদিও এই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এর মধ্যে কিউস্টোন পাইপলাইন পুনরায় চালুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ২০২১ সালে পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে এই প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছিল। ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, জো বাইডেনের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিউস্টোন এক্সএল পাইপলাইন প্রকল্পটি আবারও শুরু হতে পারে।
তবে সব পণ্যের ওপর এই শুল্ক কার্যকর হতো না। কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে ছাড় থাকায় কানাডা থেকে আসা মার্কিন আমদানির একটি ছোট অংশই কেবল এই শুল্কের আওতায় পড়ত। তবুও দুগ্ধজাত পণ্য, মধু, হোয়ে প্রোটিন, মোলাসেস এবং হুইস্কি ও ভদকার মতো পানীয়ের ওপর এর প্রভাব পড়ার কথা ছিল।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। সুপ্রিম কোর্টের বাতিল করা শুল্ক নীতিগুলো নতুন করে সাজানোর অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ইউএসএমসিএ (USMCA) চুক্তির আওতায় থাকা পণ্যগুলোও এবার এই শুল্কের আওতায় পড়ার কথা ছিল, যদিও তেল, গ্যাস ও পটাশের মতো প্রধান আমদানি পণ্যগুলোকে এর বাইরে রাখা হয়েছিল।
গত মাসে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্প এই শুল্কের ঘোষণা দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের দাবি ছিল, কানাডা মার্কিন রপ্তানি পণ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে এবং এই শুল্কের মাধ্যমে সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, কানাডা কেবল মার্কিন পদক্ষেপের পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।
কার্নি আরও বলেন, এই বাণিজ্য বিরোধের কারণে মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর খরচের বোঝা বাড়ছে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যা উভয় দেশের নাগরিকদের জন্য কল্যাণকর হবে।
ট্রাম্প ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের ৩৩৮ নম্বর ধারার অধীনে এই শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগের চেষ্টা করেছিলেন। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করলে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন।
ইউবিএস-এর অর্থনীতিবিদ এবিগেইল ওয়াট এক মেমোতে উল্লেখ করেছেন যে, এই ধারাটি আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি। ফলে এই পদক্ষেপের কোনো আইনি নজির নেই। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কানাডার সাথে বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে আসছেন, যার লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের এই বিরোধের অবসান ঘটানো।

