নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মেয়র হওয়ার পথে বাধা দিতে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপাররা লাখ লাখ ডলার ব্যয় করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, মামদানির নীতি নগরীর আবাসন খাতের জন্য ধ্বংসাত্মক হবে। তবে ক্ষমতায় আসার পর মামদানি তার কৌশল বদলে ২২ বিলিয়ন ডলারের নতুন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, যা মূলত ডেভেলপারদের ওপরই নির্ভরশীল। অথচ নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি ভিয়েনা-মডেলের সামাজিক আবাসন তৈরির জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন।
নতুন এই কৌশলের মাধ্যমে আগামী এক দশকে ২ লাখ সাশ্রয়ী ঘর তৈরির লক্ষ্য নিয়েছেন মামদানি। এর জন্য তিনি বিল্ডিং রেগুলেশন সহজ করা, জোনিং বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং বেসরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে শহরের জরাজীর্ণ পাবলিক হাউজিং সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছেন। মামদানি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, আবাসন নির্মাণে বেসরকারি খাতের ভূমিকা নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। গত সপ্তাহে এক ভাষণে তিনি তার এই রাজনৈতিক বিবর্তনের কথা তুলে ধরেন।
অস্টিন, মিনিয়াপোলিস এবং সিয়াটলের মতো শহরগুলোর সাফল্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আবাসন সংকট কাটাতে এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণে জোনিং আইন ও অন্যান্য বিধিনিষেধ শিথিল করা অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অস্টিনে আবাসন সরবরাহ ১০.৫ শতাংশ বেড়েছে এবং এর ফলে ভাড়া ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নিস্কানেন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো অ্যালেক্স আরমলোভিচ মনে করেন, মামদানির এই পরিকল্পনাটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং বেসরকারি খাতের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারকে উন্মুক্ত করার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
তবে মামদানির এই নতুন পথচলা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। ম্যানহাটান ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এরিক কোবার বলেন, মামদানি আদর্শগতভাবে সমাজতান্ত্রিক হলেও বাস্তব পরিস্থিতি তাকে ভিন্ন পথে হাঁটতে বাধ্য করছে। তিনি মামদানিকে একজন ‘লেফট-ওয়াইএমবিওয়াই’ (YIMBY) হিসেবে অভিহিত করেন। কোবারের মতে, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের মতো কিছু নীতি এখনো ডেভেলপারদের নিরুৎসাহিত করছে, যা আবাসন তৈরির গতি কমিয়ে দিতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মুনাফার সুযোগ না থাকলে বেসরকারি খাত অন্য কোথাও বিনিয়োগ সরিয়ে নেবে।
মামদানি বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-স্থিতিশীল (rent-stabilized) অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া ফ্রিজ বা হিমায়িত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা শহরের মোট ভাড়ার প্রায় অর্ধেক। তার মনোনীত রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড এই ভাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউটিলিটি, বিমা এবং শ্রমের খরচ বাড়লেও ভাড়া স্থির থাকলে অনেক পুরনো ভবন আর্থিক সংকটে পড়বে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চার বছর ভাড়া ফ্রিজ রাখলে বাইরের বরোগুলোর অনেক ভবন দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে।
যদিও মামদানি কিছু সংকটাপন্ন বাড়ির মালিকদের জন্য ভাড়া বাড়ানোর ছাড় দিয়েছেন, তবে অধিকাংশ নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট এর আওতার বাইরে। এরিক কোবার মনে করেন, এই নীতি ভাড়া-স্থিতিশীল আবাসন খাতের আর্থিক সংকট আরও ঘনীভূত করবে। তিনি মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পলের উদাহরণ টেনে বলেন, মিনিয়াপোলিস যেখানে জোনিং আইন শিথিল করে সফল হয়েছে, সেখানে সেন্ট পল কঠোর ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ করে হোঁচট খেয়েছে। বর্তমানে সেন্ট পল তাদের সেই কঠোর নীতি থেকে সরে আসছে।

