ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষায় এবং তাদের ওপর হওয়া হয়রানি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম। বেইল বা ঋণ আদায়কারীদের বেপরোয়া আচরণ এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই নতুন নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগটি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ব্রিটেনকে আরও ন্যায়পরায়ণ করে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া ধারাবাহিক ‘এভরিডে ফিক্সেস’ বা দৈনন্দিন সমাধানের অংশ।
বেইল বা ঋণ আদায়কারীদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ
প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ ঋণ আদায়ের মামলা বেইলদের কাছে পাঠানো হয়। ট্রাফিক জরিমানা, পার্কিং ফি এবং কাউন্সিল ট্যাক্স বকেয়া থেকে এই শিল্প বছরে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করে। তবে এই খাতে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের জুন মাসে বিচার মন্ত্রণালয় বেইলদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছিল। গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানেও সরকারের এই ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
- নতুন নিয়মের আওতায়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বেসরকারি বেইলদের এখন এনফোর্সমেন্ট কন্ডাক্ট বোর্ড (ECB) কর্তৃক স্বীকৃত হতে হবে অথবা এমন কোনো কোম্পানির অধীনে কাজ করতে হবে যারা এই বোর্ডের নিবন্ধিত।
- লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন সার্টিফিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- বেইলদের পেশাদার মান বজায় রাখা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য একটি স্বাধীন অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
- এই নতুন ব্যবস্থা আগামী বছর থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আদালত ও আইনি সেবা বিষয়ক মন্ত্রী সারাহ স্যাকম্যান বলেন, যখন কেউ ঋণের চাপে জর্জরিত, তখন তাদের ওপর ভীতি প্রদর্শন, অন্যায্য আচরণ বা সামর্থ্যের বাইরে কিস্তি পরিশোধের চাপ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমানে বেইলদের বিরুদ্ধে দরজায় গিয়ে আগ্রাসী আচরণ, অতিরিক্ত চার্জ আদায়, প্রতিবন্ধীদের গাড়ি আটকে রাখা এবং ‘অব্যাহতিপ্রাপ্ত’ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মানিসেভিংএক্সপার্ট ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা মার্টিন লুইস গত জুন মাসে বেইলদের জন্য উপযুক্ত স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা না থাকাকে ‘চরম অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
‘কাউবয় বিল্ডার’ বা প্রতারক নির্মাতাদের বিরুদ্ধে অভিযান
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম জানিয়েছেন, সাবস্ক্রিপশন ট্র্যাপ এবং ভুয়া ডিসকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর এবার সরকার ‘কাউবয় বিল্ডার’ বা প্রতারক নির্মাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে। আগামী মাস থেকে একটি সরকারি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প চালু হবে, যা সাধারণ মানুষকে বিশ্বস্ত নির্মাতা ও ট্রেডসম্যান খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
- ফার্নিচার অ্যান্ড হোম ইমপ্রুভমেন্ট অমবাডসম্যানের তৈরি ‘অ্যাপ্রুভড কোড’ স্কিমে নিবন্ধিত ব্যবসাগুলো উচ্চ মান বজায় রাখার নিশ্চয়তা দেবে।
- এই স্কিমটি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের নিয়ে চালু হবে এবং ডিসেম্বর নাগাদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।
- ‘ট্রাস্টেড পেমেন্টস’ নামে একটি অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবা আগামী সপ্তাহে চালু হবে, যা বাড়ি নির্মাণের সময় গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদ রাখবে।
- এই পরিষেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা প্রকল্পের মাইলফলক অনুযায়ী ধাপে ধাপে নির্মাতাদের অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন, যা অনেকটা ভাড়াটিয়াদের জন্য আমানত সুরক্ষা প্রকল্পের মতো কাজ করবে।
সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে তাদের রক্ষা করা। বেইলদের নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মাণ খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্রিটেনকে আরও ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

