বিশ্বকাপ ফুটবল, ফর্মুলা ওয়ান রেসিং এবং কে-পপ ডেমোন হান্টার্সের মতো জনপ্রিয় থিমভিত্তিক খেলনা বাজারে আসার পর লেগোর বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির আয় ২১ শতাংশ বেড়ে ৪১.৯ বিলিয়ন ড্যানিশ ক্রোন বা প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে এই সাফল্য এসেছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ২২ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ৩২ শতাংশ বেড়ে ৮.৬ বিলিয়ন ড্যানিশ ক্রোন বা প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে। এই সময়ে লেগো ৩৩০টি নতুন পণ্য বাজারে এনেছে, যার মধ্যে শব্দ ও আলো নির্গমনকারী স্মার্ট প্লে কিট অন্যতম। লেগো গ্রুপের প্রধান নির্বাহী নিলস বি ক্রিস্টিয়ানসেন জানান, ২০২৬ সালের শুরুটা তাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল এবং লেগো ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, বাজারের এই সাফল্য তাদের টেকসই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে লেগো তাদের সব কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ডেনমার্কের বিলুন্দে অবস্থিত সদর দপ্তরে তারা সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে, যা আগামী বছর থেকে চালু হবে। ১৬০,০০০ প্যানেলবিশিষ্ট এই প্রকল্প থেকে বছরে ৯৯ গিগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এছাড়া, প্যাকেজিংয়ে প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাগজের ব্যাগের ব্যবহার বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি, যা আগামী বছরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে খেলনা বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক ক্রেতারা বা ‘কিডাল্টস’ (১২ বছর বা তার বেশি বয়সী) শখের বশে দামি লেগো সেট ও সংগ্রহযোগ্য ফিগার কিনছেন। সার্কানা নামক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের খেলনা বাজারে প্রতি ৩ পাউন্ড খরচের ১ পাউন্ডই আসে এই বয়সের ক্রেতাদের কাছ থেকে। ২০২৫ সালে তাদের খরচের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রিটিশ টয় অ্যান্ড হবি অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এটি খেলার এক নতুন যুগের সূচনা, যেখানে খেলনাগুলো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মুহূর্তের সাথে মিশে যাচ্ছে এবং সব বয়সের মানুষ তা উপভোগ করছে।

