নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ স্থগিত করল চীন

গত ২৬ আগস্ট বুধবার নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের রেশ এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই ওই একই এলাকায় নতুন করে আরও একটি বন্যার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য আগামী তিন দিন তিব্বতে উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন।

গত বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১০টা ৩০ মিনিটে নেপালের সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং তিব্বতের গিরং জেলায় এই আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৬৫ জন বিদেশি নাগরিক। হড়পা বানের ফলে সৃষ্ট লাখ লাখ টন কাদা, পাথর ও জঞ্জালের স্তূপের নিচে রাসুয়া ও গিরংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা চাপা পড়ে আছে। নেপালের পক্ষ থেকে সেখানে উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।

নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কারণ হিসেবে তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে একটি নতুন ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা প্রতিবন্ধক হ্রদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এটি ২৬ আগস্ট ভেঙে পড়া হ্রদটি থেকে আরও উজানে অবস্থিত। বর্তমানে এই হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা অনুযায়ী, আগামী তিন দিনে হ্রদটিতে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি যুক্ত হতে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় হ্রদের পানিস্তর ও ভৌগোলিক পরিবর্তনের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেইজিং ও চেংদু থেকে বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।