যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর ধরে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন ৩৫ বছর বয়সী মাধুর মেহতা। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনে প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশটিতে পাড়ি জমানোর পর ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) শেষ করে ২০২৫ সালে অ্যামাজনে যোগ দেন। প্রতিষ্ঠানটি তার এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করলে ২০২৬ সালে তিনি তা লাভ করেন। এই ভিসা প্রাপ্তিকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখলেও, তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
এইচ-১বি ভিসা পাওয়ার পরও মেহতার দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ হলো চাকরির স্থায়িত্ব। যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য খুব সীমিত সময় পাওয়া যায়, যা সরাসরি ভিসার অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। মেহতার বাগদত্তাও ভারতের নাগরিক এবং তার এইচ-১বি লটারিতে অংশগ্রহণের আর মাত্র একটি সুযোগ অবশিষ্ট রয়েছে। দুজনের ভিসার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বাড়ি কেনা বা পরিবার গঠনের মতো বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
মেহতা জানান, তার পরিচিত অনেক অভিবাসী যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তারাও ভিসার এই অনিশ্চয়তার কারণে বাড়ি কেনার ঝুঁকি না নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকছেন। প্রযুক্তি খাতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য চাকরি, ভিসা এবং স্থায়ী বসবাসের অনুমতি—এই তিনটি বিষয় একই সঙ্গে সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ সুগম করতে মেহতা এখন ইবি-১এ (EB-1A) ভিসার জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আশা করছেন, এই ভিসা পেলে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও সুনিশ্চিত হবে। মেহতার এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দক্ষ বিদেশি কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রামের চিত্রটিই তুলে ধরছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পড়াশোনা শেষে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে কাজের সুযোগ পেলেও দীর্ঘমেয়াদি ভিসার নিশ্চয়তা পাচ্ছিলেন না। চাকরির আরও তথ্য: নতুন লটারি ব্যবস্থায় বেতনভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও তখন উদ্বেগে ছিলেন তিনি।

