যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ: ট্রাম্পের ক্ষোভ ও পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা

ওয়াশিংটনে শুক্রবার বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই অচলাবস্থার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও এর সব সুবিধা ভোগ করতে চায়!!!” ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মহান কৃষকদের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে আসছে। আর না!!!”

শুল্ক আরোপ ও পাল্টা ব্যবস্থা

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগেই যুক্তরাষ্ট্র কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বা ১৪.৬ বিলিয়ন পাউন্ড। শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই শুল্কের আওতায় হকি স্টিক থেকে শুরু করে জিহ্বা পরীক্ষার যন্ত্রের (টাং ডিপ্রেসর) মতো পণ্যও রয়েছে। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন শুল্কের সমপরিমাণ “ডলারের বিপরীতে ডলার” শুল্ক আরোপের অঙ্গীকার করেছেন। কার্নি অটোয়াতে সাংবাদিকদের বলেন, “যখন আপনি আক্রান্ত হন, তখন আপনি যুদ্ধের মধ্যে থাকেন, আর আমরা আক্রান্ত হয়েছি।”

বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

  • মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, কানাডার দীর্ঘদিনের পাল্টা ব্যবস্থার জবাবেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। তার দাবি, মার্কিন শ্রমিক ও সরবরাহ ব্যবস্থা রক্ষা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
  • কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, যিনি আগে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর ছিলেন, গত বছর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ট্রাম্প এর আগে কানাডাকে “অর্থনৈতিক শক্তির” মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
  • কার্নির ঘোষিত পাল্টা শুল্ক আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যা মূলত ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে।
  • এই উত্তেজনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যকার উত্তর আমেরিকান বাণিজ্য চুক্তি বা ইউএসএমসিএ (USMCA)-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
  • ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি তিন দেশের মধ্যে বার্ষিক প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে। কানাডা ও মেক্সিকো চুক্তিটি আরও ১৬ বছরের জন্য নবায়নের অনুরোধ জানালেও ট্রাম্প এই গ্রীষ্মে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
  • বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে কার্নি বলেন, এটি “নিশ্চিতভাবেই ভালো খবর নয়”।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই শুল্ক যুদ্ধের ফলে কিছু কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তবে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব হবে রাজনৈতিক, যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। উভয় পক্ষই শুক্রবারের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে। কার্নি মনে করেন, ট্রাম্প তার শুল্ক আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে বড় ধরনের “ভুল হিসাব” করেছেন।