প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান হোয়াইট হাউস সহযোগী ন্যাটালি হার্পের অতীতের একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি তিনি ট্রাম্পের প্রতি গভীর আনুগত্য প্রকাশ করে দেড় শতাধিক টুইট করেছিলেন। এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্ম থেকে মুছে ফেলা ওই অ্যাকাউন্টটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেদিন তিনি বারবার রিপাবলিকানদের প্রতি “FIGHT FOR TRUMP” বা ট্রাম্পের জন্য লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বর্তমানে তার অ্যাকাউন্টটি স্থগিত রয়েছে এবং এটি কে বা কীভাবে মুছে ফেলেছে তা স্পষ্ট নয়।
আক্রন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেভিড বি. কোহেন মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্প এমন অনুগত ও তোষামোদকারী কর্মীই পছন্দ করেন যারা তাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে বরং শ্রদ্ধা জানান। হার্পের এই কর্মকাণ্ড ট্রাম্পের বলয়ে থাকা অন্যান্য অনুগতদের মতোই, তবে ৬ জানুয়ারির ওই পোস্টগুলো ছিল তার চরম আনুগত্যের এক প্রকাশ্য নিদর্শন। তিনি ট্রাম্প ও তার মিত্রদের বীর হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ট্রাম্পের ভিত্তিহীন দাবিগুলো প্রচার করেছিলেন।
ঘটনার দিন সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে যখন ভিড় জমছিল, তখন ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কের উপস্থাপক ও ট্রাম্পের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য হিসেবে পরিচিত হার্প ট্রাম্প পরিবারের মন্তব্য শেয়ার করে লিখেছিলেন, “এই আন্দোলন কখনোই শেষ হবে না।” ২৯ বছর বয়সী হার্প সেদিন ট্রাম্পের ভাষণের জন্য সমবেত সমর্থকদের “দেশপ্রেমিক” আখ্যা দেন এবং আইনপ্রণেতাদের তাদের মতো সাহস দেখানোর চ্যালেঞ্জ জানিয়ে “STOP THE STEAL” স্লোগান দেন।
রুডি জিউলিয়ানির “ট্রায়াল বাই কমব্যাট” বা যুদ্ধের মাধ্যমে বিচারের ডাককেও তিনি সমর্থন করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষণের সময় তিনি ডজনখানেকবার “FIGHT FOR TRUMP!” লিখে পোস্ট করেন এবং ডিসিকে “ট্রাম্প কান্ট্রি” হিসেবে ঘোষণা করেন। ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার পর তিনি দাবি করেছিলেন যে দাঙ্গাকারীরা ট্রাম্পের সমর্থক নয় এবং সেখানে এন্টিনা (Antifa) অনুপ্রবেশ করেছে বলে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছিলেন।
কংগ্রেসের নির্বাচনী গণনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর তিনি জিউলিয়ানির বক্তব্য উদ্ধৃত করে লিখেছিলেন যে এই বিলম্বের ফলে ট্রাম্পের আইনি দলের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। অ্যারিজোনার নির্বাচনী ভোট গণনার বিরোধিতা করা রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের তিনি প্রশংসা করেছিলেন। বিশেষ করে জডি হাইস, মার্জোরি টেইলর গ্রিন এবং জশ হওলির মতো নেতাদের তিনি দেশপ্রেমিক হিসেবে অভিহিত করেন।
হার্পের এই অন্ধ আনুগত্য কেবল ৬ জানুয়ারির ঘটনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০১৬ সাল থেকেই তিনি ট্রাম্পের সমর্থনে টুইট করে আসছেন। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের অভিশংসনের সময়ও তিনি বাইবেলের আয়াত উদ্ধৃত করে তার পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন। নির্বাচনের পর তিনি লিখেছিলেন, “আমরা তোমাকে ভালোবাসি! x ৭১ মিলিয়ন।” ১৪ ডিসেম্বর বাইডেনের জয়কে তিনি “একটি অভ্যুত্থান” বলে অভিহিত করেছিলেন।
সম্প্রতি ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জন ওসফ ট্রাম্পের সমালোচনা করতে গিয়ে হার্পের নাম উল্লেখ করলে তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। ডেইলি বিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতি তার অটল আনুগত্যের কথা জানিয়ে লেখা দুটি চিঠিও প্রকাশ্যে এসেছে। এই বিষয়ে হার্প বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

