পর্দায় কম উপস্থিতি, নেপথ্যে নীতিনির্ধারণী কাজে ব্যস্ত মেলানিয়া ট্রাম্প

স্লোভেনিয়ায় শৈশবে বাবার সাথে ফর্মুলা ওয়ান রেস দেখার অভিজ্ঞতা ছিল মেলানিয়া ট্রাম্পের। সেই ব্যক্তিগত আগ্রহের সাথে নতুন একটি সামাজিক উদ্যোগকে যুক্ত করতে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি। তিনি ইন্ডি-কার (IndyCar) এবং ফক্স কর্পোরেশনের সাথে মিলে ফস্টার কেয়ার বা অনাথ আশ্রম থেকে বেরিয়ে আসা তরুণদের জন্য নতুন বৃত্তি কার্যক্রম চালু করছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে গ্র্যান্ড প্রিক্সের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে এই উদ্যোগের ঘোষণা দেবেন তিনি।

মেলানিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এই আয়োজনকে এমন এক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা আগে কখনো দেখা যায়নি। দ্বিতীয় মেয়াদে মেলানিয়া ট্রাম্প জনসমক্ষে বেশ কম আসছেন। গত ১৯ জুলাই ফিফা বিশ্বকাপের পর তাকে আর সেভাবে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে তিনি প্রচলিত ফার্স্ট লেডিদের মতো জনসম্পৃক্ত ভূমিকার চেয়ে নেপথ্যে থেকে নীতিনির্ধারণী কাজে বেশি সময় ব্যয় করছেন। বিশেষ করে তার ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার’ উদ্যোগটি নিয়ে তিনি বেশ সক্রিয়।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্য, হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার এবং ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও মেলানিয়াকে দেখা যায়নি। তিনি বেশিরভাগ সময় নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে প্রেসিডেন্টের গলফ ক্লাবে কাটিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে চলমান নির্মাণকাজের কারণেও তিনি সেখানে কম সময় থাকছেন। এর আগে অ্যামাজনের সাথে তার একটি তথ্যচিত্রের চুক্তি প্রচারের বাইরে তাকে খুব একটা জনসম্মুখে দেখা যায়নি।

প্রথম মেয়াদে তার ‘বি বেস্ট’ উদ্যোগটি খুব একটা সাড়া না ফেললেও, এবার তিনি অনেক বেশি সুসংগঠিত নীতি নিয়ে কাজ করছেন। যদিও ফস্টার কেয়ারে তার আগ্রহের মূল কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি, তবে ২০২১ সাল থেকেই তিনি এ বিষয়ে বৃত্তি কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪ লাখ শিশু ফস্টার কেয়ারে রয়েছে এবং ন্যাশনাল ইয়ুথ ইন ট্রানজিশন ডাটাবেজ বলছে, সিস্টেম থেকে বেরিয়ে আসার সময় প্রতি পাঁচজনের একজন গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি শিশু কল্যাণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং ‘অনাথ কর’ বিলোপের উদ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়া ফস্টার কেয়ারে থাকা শিশুদের জন্য আইআরএ-স্টাইল সঞ্চয় হিসাব এবং ২০২৬ সালের বাজেটে ২৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছেন। কংগ্রেসের সাথে মিলে তিনি ফস্টার কেয়ার থেকে বেরিয়ে আসা তরুণদের আবাসন ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর জন্য কাজ করছেন, যদিও সেই আইনটি এখনো ঝুলে আছে।

মেলানিয়ার কার্যালয় এখন উত্তরাধিকার তৈরির দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। এজন্য তারা নীতি নির্ধারণে দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছেন। সারাহ গেসিরিচকে নীতি পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি এর আগে লরা বুশ এবং সিনেটর চাক গ্রাসলির সাথে কাজ করেছেন। তার ছোট টিমটি বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে ফস্টার কেয়ারের শিশুদের উপকারে কাজ করতে বাধ্য করছে।

চিলড্রেনস ডিফেন্স ফান্ডের জ্যেষ্ঠ নীতি ব্যবস্থাপক শ্যান্টাল হিন্ডস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কিছু বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের খাদ্য সহায়তা বা মেডিকেড ব্যবস্থার মতো সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোতে কাটছাঁট করা হচ্ছে, যা পরিবারগুলোকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার মতে, এই নীতিগুলো শেষ পর্যন্ত ফস্টার কেয়ারে শিশুর সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে মেলানিয়ার এই উদ্যোগের ফলে রাজনৈতিক মহলে ফস্টার কেয়ারের মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে আলোচনার গতি বেড়েছে। বিশেষ করে ‘কিন লাইসেন্সিং’ বা আত্মীয়দের ফস্টার অভিভাবক হওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি এখন অনেক সহজে এগিয়ে যাচ্ছে, যা আগে কঠিন ছিল।