কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত অন্তত ১২ জন

লন্ডন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বুধবার রাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো এক ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হামলার ভয়াবহতা ও উদ্ধার তৎপরতা

জেলেনস্কি জানান, সারা রাত ধরে জরুরি সেবাকর্মীরা হামলার শিকার বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এটি একটি অত্যন্ত ভয়াবহ হামলা ছিল। রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়ে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে ড্রোন ব্যবহার করে এই সমন্বিত আক্রমণ পরিচালনা করেছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল বেসামরিক অবকাঠামোতে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা।

হামলার বিস্তারিত তথ্য

  • ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতে অনির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৬টি ক্রুজ বা এয়ার-টু-গ্রাউন্ড ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
  • হামলায় মোট ১৬৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল কিয়েভ অঞ্চল।
  • ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪১টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৪৫টি ড্রোন ভূপাতিত বা অকার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে।
  • হামলার ফলে অন্তত ২৮টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ক্ষয়ক্ষতি ও পরিস্থিতির অবনতি

কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন, একটি শিশু হাসপাতাল এবং একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন। এছাড়া ওডেসা ও চেরনিহিভ অঞ্চলেও রুশ হামলার খবর পাওয়া গেছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, বিশেষ করে সভিয়াটোশিনস্কি, সোলোমিয়ানস্কি এবং দারনিতস্কি এলাকায় warehouses বা গুদামে আগুন লেগেছে এবং আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বা সেগুলো ভূপাতিত করার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ইউক্রেন বর্তমানে ‘ফ্রেইয়া’ (FREYJA) নামক নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে, তবে এটি ২০২৭ সালের আগে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আরও গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও রাশিয়ার অবস্থান

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই রাতকে কিয়েভের জন্য একটি ‘ভয়াবহ ও নিদ্রাহীন রাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি একে রাশিয়ার অন্যতম নৃশংস হামলা বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তারা কিয়েভ ও এর আশপাশের সামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও লজিস্টিক হাব এবং গুদাম লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

পাল্টা হামলার দাবি

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে যে, তারা ইউক্রেনের অন্তত ৭২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এসব ড্রোন রাশিয়ার ১৮টি অঞ্চল, ক্রিমিয়া, আজভ সাগর এবং কৃষ্ণ সাগর এলাকায় ধ্বংস করা হয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, শুধুমাত্র মস্কো অঞ্চলেই অন্তত ২৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।