হোয়াইট হাউসে নতুন গ্রানাইট হেলিপ্যাড পরিদর্শন করলেন ট্রাম্প, নিজের স্বাক্ষর যুক্ত করলেন নির্মাণকাজে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী গ্রানাইট হেলিপ্যাড পরিদর্শন করেছেন। এই প্রকল্পের কাজ চলাকালীন তিনি এর একটি স্ল্যাবে নিজের নাম স্বাক্ষর করেন। এটি হোয়াইট হাউসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই প্রকল্পটিকে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ বলে অভিহিত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এটি দীর্ঘ সময় টিকে থাকবে। এই হেলিপ্যাডে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সিল বা প্রতীক যুক্ত থাকবে।

এই প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই মাসে ওভাল অফিস থেকে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিকোরস্কি এই হেলিপ্যাড নির্মাণের পুরো খরচ বহন করবে। তিনি তখন জানিয়েছিলেন, এর ব্যয় প্রায় ৫ থেকে ৬ মিলিয়ন ডলার।

বুধবার ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন যে, সিকোরস্কি এই খরচের বড় অংশ বহন করছে এবং এর সাথে তার নিজেরসহ আরও অনেকের অনুদান যুক্ত রয়েছে। তবে লকহিড মার্টিন—যা সিকোরস্কির মূল কোম্পানি—গত মাসে এক বিবৃতিতে জানায় যে, তাদের অবদান ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের জন্য করা হয়েছে এবং তাদের কাজ কঠোর নৈতিক ও কমপ্লায়েন্স মানদণ্ড মেনে পরিচালিত হচ্ছে।

হেলিপ্যাডটি নির্মাণের জন্য কর্মীরা সকাল ছয়টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করছেন। প্রেসিডেন্ট জানান, এই হেলিপ্যাডটি বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী ও বড় হেলিকপ্টার অবতরণের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। নতুন মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারগুলো ওজনের কারণে হোয়াইট হাউসের ঘাসের ক্ষতি করে, তাই এই নতুন ল্যান্ডিং জোনটি তৈরি করা হচ্ছে যাতে সেগুলো নিরাপদে অবতরণ করতে পারে।

নির্মাণাধীন এই হেলিপ্যাডটি শুধু হেলিকপ্টার অবতরণের জন্যই নয়, বরং বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের স্বাগত জানানো, নতুন বলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আগে ককটেল স্পেস হিসেবে এবং প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলনের জন্য ব্যবহার করা হবে।

নির্মাণ শ্রমিকদের সাথে আলাপকালে একজন জানান, হেলিপ্যাডের কাজ ২১ তারিখের মধ্যে শেষ হতে পারে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, ২৪ সেপ্টেম্বর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের আগেই এটি সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, এটি সম্পন্ন হলে খুব ভালো হবে, যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়।

ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, লনের ঢালু অংশ সামঞ্জস্য করতে হেলিপ্যাডটি উঁচু করার নির্দেশ দেওয়ায় প্রকল্পের কাজ দেড় সপ্তাহ পিছিয়ে গিয়েছিল। তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এটি উঁচু করা তাদের করা অন্যতম সেরা কাজ ছিল।

প্রেসিডেন্ট জানান, তার এবং প্রকল্পের প্রধানদের স্বাক্ষর ঈগলের মাথার পেছনের দিকে থাকবে, যা কাজ শেষ হওয়ার পর আর দৃশ্যমান হবে না। হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্ট নিজের নাম কোনো নির্মাণ প্রকল্পে খোদাই করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।