জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে বিশ্বজুড়ে কমেছে স্নিকার্স বিক্রি, মুনাফার পূর্বাভাস কমাল জেডি স্পোর্টস

বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবং মূল্যস্ফীতির চাপে ক্রেতাদের কেনাকাটায় আগ্রহ কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান জেডি স্পোর্টসের ব্যবসায়। নাইকি ও অ্যাডিডাসের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রেতা এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের বার্ষিক মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে এনেছে। আগে প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৭৫০ মিলিয়ন থেকে ৮৫০ মিলিয়ন পাউন্ড প্রাক-কর মুনাফার আশা করলেও, এখন তা ৭০০ মিলিয়ন থেকে ৮০০ মিলিয়ন পাউন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ঘোষণার পর লন্ডনের শেয়ার বাজারে জেডি স্পোর্টসের শেয়ারের দর ১২ শতাংশ পড়ে গেছে, যা গত জুলাই মাসের পর সর্বনিম্ন। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী রেজিস শুলজ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যবসার পরিস্থিতি বেশ কঠিন ছিল। তিনি বলেন, “আমাদের মূল ক্রেতারা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে পড়েছেন, যার ফলে পণ্য বিক্রি করতে আমাদের দাম কমাতে হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রচারণামূলক ছাড় দিতে হয়েছে।”

বিশ্বব্যাপী ৪ হাজার ৮০০টি স্টোর পরিচালনাকারী এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে জেডি স্পোর্টসের সামগ্রিক বিক্রয় ৩.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকায় বিক্রয় কমেছে ৬.৮ শতাংশ এবং ইউরোপে কমেছে ২.৭ শতাংশ।

তবে যুক্তরাজ্যের বাজারে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবং আউটডোর গিয়ারের চাহিদার কারণে সেখানে বিক্রয় পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো ছিল। বিশেষ করে ব্ল্যাকস ও গো আউটডোরসের মতো চেইন শপগুলোতে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেছে।

ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুজানা স্ট্রিটার মনে করেন, জেডি স্পোর্টসের এই পরিস্থিতি মার্কিন অর্থনীতির ওপর ঘনীভূত মেঘের ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, “স্নিকার্স এখন ক্রেতাদের আস্থার একটি সূচক হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাকরির বাজারে অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতির উদ্বেগের কারণে ক্রেতারা এখন বিলাসপণ্য কেনায় অনেক বেশি সতর্ক ও হিসেবি হয়ে উঠেছেন।”

মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেতারা তাদের ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন। জেডি স্পোর্টসের এই তথ্য প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটে চাপ বাড়লে তারা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন।