ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা
- ঘোষণা: ট্রাম্প বুধবার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
- মূল লক্ষ্য: তেল চোরাচালান, নগদ অর্থ লেনদেন, শিপ রেজিস্ট্রি এবং ফ্রন্ট কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
- বর্তমান পরিস্থিতি: যুদ্ধের ষষ্ঠ মাস চলছে, তবে ট্রাম্প একে নিজের জন্য ইতিবাচক বলে দাবি করছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এক যুদ্ধের কৌশল গ্রহণ করেছেন, যা তার স্বভাবসুলভ কড়া ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে। তিনি ইরানের অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিয়ে দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি ইরানের সাথে সব ধরনের আলোচনা স্থগিত করেছেন এবং তার ঘনিষ্ঠ মহলে এই দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের কথা জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপটি মূলত তার আগের ব্যর্থতার একটি বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে সামরিক শক্তি প্রয়োগ বা আলোচনার মাধ্যমে ইরানকে নতি স্বীকার করানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এখন তিনি এমন সব দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন, যারা ইরানকে আর্থিক বা ব্যবসায়িক সহায়তা প্রদান করবে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন, যারা ইরানকে সহায়তা করছেন তারা যেন সাবধান হয়ে যান।
তবে বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান। ইসরায়েল ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানিয়েল সিট্রিনোউইচ মনে করেন, কয়েক দশকের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান যেভাবে টিকে আছে, তাতে কেবল অর্থনৈতিক চাপে তাদের কৌশল পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। সিট্রিনোউইচ জানান, ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে ট্রাম্পের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার নীতি থেকে সরে আসছে না।
ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদী ধৈর্যের প্রয়োজন, যা তার রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। এছাড়া, এই অর্থনৈতিক অবরোধ কার্যকর করতে হলে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন, যা বর্তমান প্রশাসনের কূটনৈতিক কৌশলে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে, চীনের সাথে ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠকের প্রেক্ষাপটে চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ইরানও বসে নেই। তারা জানে যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাস বাকি। ১৯৮০ সালের নির্বাচনের আগে জিমি কার্টারের মতো ট্রাম্পকেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার চেষ্টা করছে তেহরান। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বা নতুন কোনো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে তারা মার্কিন ভোটারদের ওপর যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়িয়ে দিতে পারে।
ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি জেমস ওয়াকিনশ সতর্ক করে বলেছেন, তিনি এমন কোনো অর্থনৈতিক যুদ্ধের পক্ষে নন, যার মূল্য সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের গ্যাস ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য দিয়ে পরিশোধ করতে হয়। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই নতুন অর্থনৈতিক রণকৌশল কতটা সফল হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

