ইরানের সাথে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার পথ থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তেহরানের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ স্থগিত রাখা হয়। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার (hammer Iran ASAP) পরিকল্পনা ছিল, এখন তার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে ইরানকে কোণঠাসা বা ‘স্ট্র্যাঙ্গেল’ করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের সাথে কোনো আলোচনা চলছে না এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো আলোচনার পরিকল্পনাও নেই। অথচ জুন মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তিনি বারবার দাবি করে আসছিলেন যে, নতুন একটি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে দুই দেশ। তার এই নতুন অবস্থানের ফলে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।
প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশনার তালিকায় রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। যদিও কুশনার এর আগে ফক্স নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশ জোরালো ও ইতিবাচক আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্পের দাবি, ইরান তার শর্ত মেনে নিতে অনিচ্ছুক, তাই আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান বিরোধই এই যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তার প্রধান লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। ট্রাম্পের প্রশাসন চায় হরমুজ প্রণালীতে আগের মতো অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে। ওমানের সাথে ইরানের একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ওমানকে হুমকিও দিয়েছেন। তার মতে, এই চুক্তি ইরানকে প্রণালীর ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে ইরানও পাল্টা অভিযোগ করছে যে, ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে এই অবস্থান নিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক সম্পদ ও নৌবাহিনীর জাহাজগুলো এই অঞ্চলে মোতায়েন থাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপরও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর দীর্ঘকালীন মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের ফলে উন্নত গোলাবারুদের মজুদও আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে বলে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন।
এতসব চাপের মুখেও রিপাবলিকানদের একাংশ যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানালেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বরং হরমুজ প্রণালীর একটি মানচিত্র পোস্ট করে সেটিকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দাবি করেছেন, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে নিকট ভবিষ্যতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের শুল্ক বা ফি আরোপের প্রস্তাবও ট্রাম্প সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তার প্রশাসন মনে করে, কোনো দেশেরই এই আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অধিকার নেই। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখে তাদের শর্ত মানতে বাধ্য করাই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

