ইউরোস্টারের একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে ২০৩০ সাল থেকে ইউরোপে ট্রেন চালাবে ভার্জিন

যুক্তরাজ্যের রেল নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফিস অফ রেল অ্যান্ড রোড (ওআরআর) ভার্জিন ট্রেনসকে লন্ডন থেকে ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেন পরিচালনার জন্য ট্র্যাক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০৩০ সাল থেকে লন্ডন ও প্যারিস, ব্রাসেলস এবং আমস্টারডামের মধ্যে নতুন রেল পরিষেবা চালু করার পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল স্যার রিচার্ড ব্র্যানসনের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০৪০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভার্জিন ট্রেনস চ্যানেল টানেল দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০টি ফিরতি ট্রেন পরিচালনা করতে পারবে। ১৯৯৪ সালে চ্যানেল টানেল চালুর পর থেকে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে ইউরোস্টার একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখে আসছে। বর্তমানে ফরাসি রেল অপারেটর এসএনসিএফ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউরোস্টারের এই দীর্ঘদিনের একচেটিয়া ব্যবসার বিপরীতে ভার্জিন ট্রেনসের এই উদ্যোগ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই অনুমোদনের আগে গত বছর ভার্জিন ট্রেনস পূর্ব লন্ডনের টেম্পল মিলস ডিপো ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিল, যা ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টেম্পল মিলস হলো একমাত্র ডিপো যা লন্ডন থেকে টানেল পর্যন্ত বিস্তৃত হাই স্পিড ১ লাইনের সাথে সরাসরি সংযুক্ত।

ভার্জিন গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০৩০ সাল থেকে নতুন এই রেল পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। কোম্পানিটি এই প্রকল্পে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ এবং যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে, চ্যানেল টানেল রুটে ৩০ বছরের এই একচেটিয়া আধিপত্য শেষ করার এবং সেখানে ভার্জিনের বিশেষ সেবার অভিজ্ঞতা নিয়ে আসার এখনই উপযুক্ত সময়।

ওআরআর-এর ডেপুটি ডিরেক্টর মার্টিন জোন্স এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক রেল বাজারে প্রতিযোগিতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ভার্জিন ট্রেনস ও লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাস হাই স্পিডের অগ্রগতিকে তারা স্বাগত জানান। তবে পরিষেবা শুরু করার আগে ভার্জিনকে আরও কিছু আইনি ও কারিগরি ধাপ পার হতে হবে।

নতুন এই পরিষেবা চালুর আগে ভার্জিন ট্রেনসকে অন্যান্য রেল নেটওয়ার্কের ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওআরআর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমোদন নিতে হবে। ইউরোস্টার অতীতে উচ্চমূল্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে এবং গত এক দশকে অ্যাশফোর্ড ও এবসফ্লিট থেকে তাদের আন্তর্জাতিক পরিষেবাগুলো গুটিয়ে নিয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক রেল ভ্রমণের চাহিদা বাড়ছে। এর অংশ হিসেবে ইউরোস্টার গত বছর ডাবল-ডেকার ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া লন্ডন থেকে বার্লিন পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা নিয়ে একটি যৌথ যুক্তরাজ্য-জার্মান টাস্কফোর্সও কাজ করছে।

ভার্জিন গ্রুপের মুখপাত্রের মতে, ওআরআর-এর এই প্রাক-অনুমোদন তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। তারা চ্যানেল টানেল রুটে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে এবং যাত্রীদের কাছে ভার্জিনের মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।