ই জিন ক্যারল মামলা: ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় আপিল আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি আবেদন দ্বিতীয়বারের মতো খারিজ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে লেখক ই জিন ক্যারলকে যৌন নির্যাতন ও মানহানির দায়ে ৫০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকল। ১৭ আগস্ট আদালত এই সিদ্ধান্ত জানায়।

এর আগে ২৯ জুন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের প্রথম আপিল আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছিল। সেই রায়ের পর ট্রাম্পকে মূল ৫০ লাখ ডলারের জরিমানার পাশাপাশি সুদ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা এই অর্থ পরিশোধের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

আইনজীবীদের দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্টকে পুনরায় বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ দেওয়া উচিত। যদিও আইনি লড়াইয়ে কোনো মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা এবং আদালতের তা গ্রহণ করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

ট্রাম্পের আইনি প্রতিনিধিরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, এই মামলাটি আরেকটি বিচারাধীন আপিলের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা সুপ্রিম কোর্টের শোনা উচিত। ওই দ্বিতীয় মামলায় ২০২৪ সালে ম্যানহাটনের একটি জুরি ক্যারলকে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেয়।

২০১৯ সালে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের ভিত্তিতে ওই মানহানির মামলাটি হয়েছিল। ট্রাম্পের আইনজীবীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে করা মন্তব্যের জন্য তার দায়মুক্তি থাকা উচিত। তারা ২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত করা যায় না।

ট্রাম্পের আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, দাপ্তরিক বক্তব্যগুলো প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে প্রথম মামলার আপিলের সময় তারা এই দায়মুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করেননি। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের ওই সিদ্ধান্তের আগে তারা অন্য আইনি যুক্তির ওপর মনোযোগ দিয়েছিলেন।

আদালত কেন এই আবেদনটি আবারও প্রত্যাখ্যান করল, তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। সাধারণত এ ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে আদালত কোনো কারণ দর্শায় না।

এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন ক্যারল অভিযোগ করেন যে ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। ট্রাম্প তখন পাল্টা অভিযোগ করেন যে, ক্যারল নিজের বই বিক্রির জন্য এই মিথ্যা গল্প সাজিয়েছেন।

পরবর্তীতে ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন এবং ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় পান। এর মধ্যে ২০২২ সালে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় ক্যারল সম্পর্কে একই ধরনের মন্তব্য করলে তিনি দ্বিতীয়বার মামলা করেন। নিউইয়র্কের যৌন নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ আইনি সুযোগের আওতায় ২০২৩ সালে জুরি ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার জরিমানার রায় দেয়। ফেডারেল আপিল আদালত উভয় রায়ই বহাল রেখেছে।