ইরানের সাথে শান্তি চুক্তি বাতিল নিয়ে অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরানের সাথে গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ-এর পর তিন সপ্তাহের ভঙ্গুর শান্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কিছুটা সময় ও কৌশলগত সুবিধা দিয়েছিল। তবে এই সময়টুকু যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। হরমুজ প্রণালী দিয়ে গত তিন সপ্তাহে প্রায় ২০ কোটি ব্যারেল তেল বের হয়ে এসেছে, যা বৈশ্বিক চাহিদার দুই দিনের সমতুল্য বলে জানিয়েছেন লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি লিপো।

তবে এই পরিস্থিতির মধ্যে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ব্যারেল তেল ইরানের, যার ওপর মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ক্রেতাদের এই তেল সংগ্রহের জন্য মাত্র ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর ভেতর থেকে এশিয়ায় তেল পাঠাতে জাহাজ ভাড়া বাবদ ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে, যা প্রণালীর বাইরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বুধবার ট্রাম্প পুনরায় নৌ-অবরোধের হুমকি দিলেও এখন পর্যন্ত প্রণালীটি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে অন্তত চারটি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে ৭৮ ডলারের নিচে অবস্থান করছে, যা এমওইউ স্বাক্ষরের পরের দিনের পর সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) বর্তমানে ৩১ কোটি ৯৫ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধের আগের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম এবং ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন। যুদ্ধের সময় তেল সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে এই মজুদ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ব্যবহার করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক মজুদের অবস্থাও উদ্বেগজনক। ওকলাহোমার কুশিংয়ের পাইপলাইন হাবের মজুদ গত সপ্তাহে ৭ লাখ ব্যারেল বাড়লেও তা এখনো ২ কোটি ব্যারেলের নিচে। এই পর্যায়ে পৌঁছালে কুশিং থেকে দেশের বিভিন্ন শোধনাগারে তেল সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ট্রাম্পের আশঙ্কা, জ্বালানি মজুদের এই ঘাটতি মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। জুনের শেষ দিকে জি-৭ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, তিনি কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চান না এবং পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা ভয়াবহ হতে পারত।

বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বন্ড মার্কেটে। ১০ বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড ৪.৫৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা মে মাসের শেষের পর সর্বোচ্চ। মে মাসে যখন তেলের দাম যুদ্ধের চূড়ায় ছিল এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেখা গেছে, বন্ড ইল্ডে অস্থিরতা দেখা দিলে তিনি বাজারের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর দেন। এখন হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ হয়ে গেলে মার্কিন অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।