ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার কোনটি—জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ নাকি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা—তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। গত সপ্তাহে ভ্যান্স ফক্স নিউজে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, যুদ্ধের সময় প্রশাসনের প্রথম লক্ষ্য হলো আমেরিকানদের জন্য জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম সাশ্রয়ী রাখা এবং দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
তবে সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বক্তব্যের বিপরীতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে পারাটাই তার প্রশাসনের ‘এক নম্বর লক্ষ্য’ এবং এটি সবসময়ই থাকবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই এবং তারা একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের জানান, প্রেসিডেন্টের কাছে উভয় লক্ষ্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রশাসন জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে, তবে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন রোধ করাটাই এই সংঘাতের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ট্রাম্পের এই স্পষ্ট অবস্থানটি ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানের পর আসে, যেখানে উপস্থাপক লরেন্স জোন্স মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশ্য নিয়ে আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছিলেন। এর মাত্র আট মিনিট পরেই ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। যদিও হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, গণমাধ্যম তাদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে, অথচ তারা একই অবস্থানে রয়েছেন।
ভ্যান্সের মন্তব্যের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট তার সাক্ষাৎকারের অন্য অংশে মার্কিন লক্ষ্যগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। ভ্যান্স বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রহীনতা এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল হওয়ার মাধ্যমে।
গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন রেগুলার পেট্রোলের গড় দাম ৪.০২ ডলার, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৭ সেন্ট বেশি এবং যুদ্ধের শুরুর তুলনায় এক ডলারেরও বেশি বেড়েছে। উচ্চ জ্বালানি মূল্যের বিষয়ে গত শুক্রবার নিউইয়র্ক পুলিশ একাডেমিতে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি গ্যাসের দামের জন্য ক্ষমা চাইবেন না।
ট্রাম্পের মতে, ইরান বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা রাষ্ট্র এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘যখন আপনাদের একটু বেশি দাম দিতে হচ্ছে, তখন মনে রাখবেন আমরা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে কাজ করছি। আমি এর জন্য কখনোই ক্ষমা চাইব না, কারণ আমি সঠিক কাজটিই করছি।’
এর আগে মে মাসেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতির চেয়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণই তার কাছে একমাত্র বিবেচ্য বিষয়। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোই তার একমাত্র লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে তিনি অন্য কোনো অর্থনৈতিক চাপের কথা ভাবছেন না।
হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করলেও ট্রাম্প বারবার যুক্তি দিয়েছেন যে, ইরানের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করলে যে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে, তা বর্তমানের উচ্চ জ্বালানি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ।

