অধিকৃত পশ্চিম তীরের উম্ম আল-খায়ের গ্রামে ফিলিস্তিনিদের সহায়তাকারী এক ব্রিটিশ অধিকারকর্মীকে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আটক ওই কর্মীর নাম ফিন জফিন। তিনি মাসাফের ইয়াত্তায় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের নিয়মিত হামলার প্রতিবাদে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসতিস্থাপনকারীরা ওই কর্মীকে জোরপূর্বক উম্ম আল-খায়ের থেকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় এক বসতিস্থাপনকারী তার মুখে পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করলে তিনি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। ঘটনাস্থলেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর ইসরায়েলি পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়।
তবে ইসরায়েলি পুলিশের ভাষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, মাওন বসতি এলাকার নিরাপত্তা দলের প্রধান ওই ব্যক্তিকে এক অপ্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের সন্দেহে আটক করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর নাদাভ ওয়েইমান বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ওই কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, বসতির শিশুরা উম্ম আল-খায়েরের ফিলিস্তিনি শিশুদের একটি বল কেড়ে নিলে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ঘটনার দিন পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় বসতিস্থাপনকারীদের হামলার আরও একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ এবং পুলিশের করা অশালীন আচরণের অভিযোগ—উভয় পক্ষের বক্তব্যই পরস্পরবিরোধী, যার স্বাধীন কোনো যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

