কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশ-চীন নতুন সহযোগিতার সূচনা: সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

চীনের জিয়াংসি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলন’ কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাকে দক্ষতায় রূপান্তর করা, যা পরবর্তীতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।

এই সফরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও মাহদী আমিনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছেন। সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ঝেং পেংউ স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ উন্নয়ন এবং শিল্প-শিক্ষা সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশের বিশাল কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে আধুনিক কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। জিয়াংসি প্রদেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই সম্মেলনে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থী বিনিময় ও যৌথ গবেষণার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়।

চুক্তির অংশ হিসেবে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’, ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ এবং ‘বাংলাদেশ চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ প্লাস স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন’ প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে পতেঙ্গায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু এবং গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সরকারি উদ্যোগের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।