ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের বিশাল তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা, ঐতিহাসিক স্থাপনায় প্রভাবের আশঙ্কা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিশাল তোরণ বা ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চ’ নির্মাণের পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়েছে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস)। যদিও সংস্থাটি স্বীকার করেছে যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ওয়াশিংটনের বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ ও স্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে এনপিএস জানিয়েছে, তারা এই ক্ষতিকর প্রভাবগুলো যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে। এই তোরণটি আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিকে উদযাপন করবে এবং দেশের মূল ভিত্তিগুলোকে সম্মান জানাবে।

প্রস্তাবিত এই তোরণটি ২৫০ ফুট উঁচু হবে, যা আরলিংটন মেমোরিয়াল ব্রিজ এবং জর্জ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল পার্কওয়ের সংযোগস্থলে আরলিংটন জাতীয় সমাধির প্রবেশপথের সামনে নির্মিত হবে। এনপিএস-এর মতে, এই স্থানটি ‘অ্যাভিনিউ অফ হিরোস’ বা বীরদের পথ হিসেবে পরিচিত, যা সাহসিকতা ও ত্যাগের প্রতীক। তোরণটির উচ্চতা লিংকন মেমোরিয়ালের চেয়ে বেশি এবং এটি ক্যাপিটল ভবনের উচ্চতার (২৮৮ ফুট) কাছাকাছি। সংস্থাটি ছোট কোনো কাঠামোর পরিকল্পনা নাকচ করে দিয়েছে, কারণ ২৫০ ফুট উচ্চতাটি আমেরিকার ২৫০তম বার্ষিকীর প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তোরণটি কংক্রিট ও গ্রানাইট দিয়ে তৈরি হবে, যার কেন্দ্রে একটি ডানাওয়ালা মূর্তি এবং দুই পাশে ঈগলের প্রতিকৃতি থাকবে। দর্শনার্থীদের জন্য এতে একটি পর্যবেক্ষণ ডেকও রাখা হবে। ট্রাম্পের ওয়াশিংটনের ল্যান্ডস্কেপে নিজের ছাপ রাখার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি নির্মিত হচ্ছে। এর আগে লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুলের বিতর্কিত সংস্কার, হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম এবং গ্রানাইট হেলিপ্যাড নির্মাণের মতো প্রকল্পগুলোও তিনি হাতে নিয়েছিলেন।

পার্ক সার্ভিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তোরণ নির্মাণের ফলে ডজনখানেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মূলত এই স্থাপনাগুলোর দৃশ্যপট বা ভিউ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঐতিহাসিক সম্পত্তির অবস্থান, নকশা, পরিবেশ বা কাজের শৈলী ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে ‘প্রতিকূল প্রভাব’ হিসেবে গণ্য করা হয়। মেমোরিয়াল সার্কেল, আরলিংটন মেমোরিয়াল ব্রিজ, মেমোরিয়াল অ্যাভিনিউ, আরলিংটন জাতীয় সমাধি, আরলিংটন হাউস এবং লিংকন মেমোরিয়াল করিডোর সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছোট বা অন্য কোনো স্থানে তোরণটি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবও নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। এনপিএস-এর মতে, তোরণটি ছোট করলে তা লিংকন মেমোরিয়ালের দৃশ্যকে ফ্রেমবন্দি করার বদলে বরং বাধাগ্রস্ত করবে। এছাড়া, অন্য কোথাও এটি নির্মাণ করলে মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। সংস্থাটি স্বীকার করেছে যে, মেমোরিয়াল সার্কেল একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ঐতিহাসিক এলাকা, তবে এই সংবেদনশীলতাই একে তোরণ নির্মাণের জন্য ঐতিহাসিকভাবে উপযুক্ত স্থান করে তুলেছে।

প্রভাব কমানোর অংশ হিসেবে এনপিএস নির্মাণকালীন বিঘ্ন কমানোর পরিকল্পনা করেছে। একইসঙ্গে মেমোরিয়াল অ্যাভিনিউ ও ব্রিজের অন্যান্য স্থাপত্যের পুনর্বাসন এবং দর্শনার্থীদের জন্য শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।