প্রতিরক্ষা খাতে ৩ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে দেরি করবে ব্রিটিশ সরকার

যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী জন হিলি আগামী ২৮ অক্টোবর তার প্রথম বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন। তবে ট্রেজারি নিশ্চিত করেছে যে, প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৩ শতাংশ ব্যয় করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময়সীমা এই বাজেটে ঘোষণা করা হবে না। এই পরিকল্পনাটি আগামী বছরের ব্যয় পর্যালোচনা পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

গত জুন মাসে জন হিলি তৎকালীন প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে পদত্যাগ করেছিলেন। সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ট্রেজারির বিরুদ্ধে দেশের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বরাদ্দে ব্যর্থতা ও অনিচ্ছার অভিযোগ তুলেছিলেন। হিলি তখন জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা জরুরি।

তবে অ্যান্ডি বার্নাম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং র‍্যাচেল রিভসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে হিলি সেই ৩ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা থেকে বিরত রয়েছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী বার্নামও এই ৩ শতাংশের প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হননি।

ট্রেজারি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে মূল মনোযোগ থাকবে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা (DIP) পুরোপুরি অর্থায়নের ওপর। স্টারমারের শেষ ঘোষণাগুলোর একটি ছিল এই তিন বছর মেয়াদী পরিকল্পনা, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ১.২ বিলিয়ন পাউন্ডের ঘাটতি রয়েছে। হিলির পূর্বসূরি রিভস ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, অন্যান্য সরকারি বিভাগ থেকে কাটছাঁট করে এই অর্থ সংস্থান করতে হবে।

সরকারি এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম দায়িত্ব। সরকার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী ব্যয় পর্যালোচনায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যাটো জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জিডিপির ৩.৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের পথরেখা এবং ৩ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে এই ব্যয় ২০৩০ সালের মধ্যে ২.৭ শতাংশে পৌঁছানোর পথে রয়েছে, যা স্টারমারের বৈদেশিক সাহায্য কমানোর সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে হিলি স্কাই নিউজকে বলেছেন, যেকোনো অর্থমন্ত্রীর জন্য আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রথম অগ্রাধিকার। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের ক্রেডিট কার্ডের সীমা অতিক্রম করে বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব নয়।

এদিকে, অর্থমন্ত্রী জন হিলি এই সপ্তাহান্তে নর্থ ক্যারোলিনায় জি২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন। মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, বন্ড বাজারের অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।