ঈশ্বরগঞ্জে দপ্তরি নিয়োগে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি নিয়োগকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে নিয়োগের বিনিময়ে ২ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে প্রধান শিক্ষককে বলতে শোনা যায় যে, তিনি ২ লাখ টাকা নিয়েছেন এবং আরও ১০ লাখ টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য পদ দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে।

ভিডিওতে প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সরকারি চিঠিপত্র অনুযায়ী হয়েছে এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা এ বিষয়ে অবগত আছেন। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তাকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ জানিয়েছেন, নাজমুল আলম বর্তমানে একদিনের ছুটিতে রয়েছেন। তবে শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রধান শিক্ষককে তার জবাব দিতে হবে।

এদিকে, প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নাপ্তের বাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। অন্যদিকে, শোকজের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম জানান, তিনি শোকজের কথা শুনেছেন কিন্তু এখনো আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পাননি। স্থানীয়রা এখন শিক্ষা বিভাগের পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। পুরো বিষয়টি এখন উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।