কৃষক ও রিপাবলিকানদের তীব্র বিরোধিতার মুখেও গরুর মাংসের শুল্ক কমানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে গরুর মাংসের কিছু আমদানির ওপর থেকে শুল্ক সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার সরকারি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশের কৃষক এবং রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক সমালোচনা ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপটি শুধুমাত্র লিন বিফ ট্রিমিংস বা চর্বিহীন মাংসের টুকরোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যা মূলত আমেরিকার নিজস্ব গরুর মাংসের সাথে মিশিয়ে গ্রাউন্ড বিফ বা কিমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। আগে থেকেই এই মাংস কম শুল্কে আমদানি করা হতো, তবে নতুন আদেশের ফলে আমদানির পরিমাণ ৩ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছে।

এই আদেশের আওতায় কোন কোন দেশ থেকে মাংস আমদানি করা হবে, সে বিষয়ে প্রশাসন স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে কৃষিসচিব ব্রুক রলিন্সকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই আলোচনায় তিনি সরাসরি যুক্ত নন এবং এ বিষয়ে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির সাথে কথা বলা উচিত।

তবে সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, যেসব দেশের সাথে আমেরিকার মাংস আমদানির নির্দিষ্ট কোটা রয়েছে বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিদ্যমান, তাদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে না। এই অস্থায়ী শুল্ক বিরতির মূল লক্ষ্য হলো গরুর মাংসের বিক্রয়মূল্য ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই শুল্ক ছাড়ের ফলে বাজারে গরুর মাংসের দাম না কমে, তবে তিনি এই আদেশ বাতিল করতে পারেন। তার মতে, বিদেশি উৎপাদকরা যেন অন্যায্য মুনাফা না পায়, তা নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।

গত শুক্রবার এই পরিকল্পনার কথা প্রথম ঘোষণা করেন ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে একে দেখা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত আমেরিকান কৃষি শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং স্থানীয় উৎপাদনকারীদের চাপে ফেলবে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন কৃষক ও রিপাবলিকান নেতারা।

মন্টানার রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে জানান, তিনি প্রেসিডেন্টকে এই পথে না হাঁটার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, আমেরিকান খামারিরা কয়েক দশক ধরে প্যাকার মনোপলির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন এবং এই নতুন সিদ্ধান্ত তাদের আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

ওয়াইমিংয়ের রিপাবলিকান সিনেটর জন ব্যারাশোও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে বলেছেন, আমেরিকানরা বিদেশি আমদানির পরিবর্তে দেশীয় গরুর মাংসই টেবিলে দেখতে চায়। তিনি স্থানীয় খামারিদের শক্তিশালী করার পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এই সমালোচনার মুখে প্রশাসন মাংস শিল্পের সাথে জড়িতদের দাবি মেনে কিছু নীতি পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করছে। এই আমদানির পরিকল্পনাটি মাত্র ৯০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে এবং ১ সেপ্টেম্বর থেকে এর সময়কাল শুরু হবে। আমদানিকৃত ৩ লাখ মেট্রিক টন মাংস ৩০ দিনের তিনটি কিস্তিতে সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।