যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দিতে এসে এক ডেলিভারি চালকের নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গত ২৪ আগস্ট হিউস্টনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হোমস্টেড এলাকার কাছাকাছি ম্যাটলকের বাড়িতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় বাড়ির ভেতরে ভিডিও গেম খেলছিলেন ম্যাটলক। মেয়ের কাছ থেকে ফোনে নোটিফিকেশন পাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন তার খাবারের অর্ডার পৌঁছেছে। এরপর বাড়ির রিং নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি হতবাক হয়ে যান।
ফুটেজে দেখা যায়, খাবার ডেলিভারি দেওয়ার পর ওই চালক বাড়ির বাইরে নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। ম্যাটলক জানান, দৃশ্যটি দেখে তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। তিনি নিয়মিত ডোরড্যাশ ব্যবহার করলেও ওই দিনের খাবার আর গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ তার অর্ডারের অর্থ ফেরত প্রদান করেছে।
ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৬ হিউস্টনের অনুসন্ধানে ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি জানার পর তারা সরাসরি ম্যাটলকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র এই আচরণকে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। ডোরড্যাশের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ ওই চালকের জন্য স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, কোনো ধরনের যৌন হয়রানি বা অনুপযুক্ত আচরণ প্রতিষ্ঠানটি সহ্য করে না।
ডোরড্যাশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, তাদের অ্যাপের মাধ্যমে জমা পড়া অভিযোগগুলো ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগ পর্যালোচনা করে থাকে। ডেলিভারির সময় কোনো গ্রাহক অস্বাভাবিক বা উদ্বেগজনক আচরণের মুখোমুখি হলে দ্রুত অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিজেকে অনিরাপদ মনে হলে স্থানীয় পুলিশকে জানানো বা তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কায় ৯১১-এ ফোন করার নির্দেশনা দিয়েছে কোম্পানিটি। ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন হলে ডোরড্যাশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে।
এদিকে হিউস্টন পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বাড়ির বাসিন্দাদের উচিত পুলিশকে জানানো এবং ঘটনার সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা। পুলিশের মতে, ঘটনার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এর জন্য আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রয়োজন, যার ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা হবে ঠিক কী ঘটেছিল।
টেক্সাসের আইনে এ ধরনের আচরণ কোন পরিস্থিতিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। এই ঘটনাটি বাড়িতে খাবার বা পণ্য ডেলিভারির সময় নিরাপত্তা ক্যামেরার গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ডেলিভারি কর্মীর আচরণ নিয়ে কোনো উদ্বেগ তৈরি হলে ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ফক্স ২৬ হিউস্টন (FOX 26), প্রতিবেদক লেসলি ডেলাসবোর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে জরুরি নম্বরে ৯১১-এ ফোন করতে বলা হয়েছে।

