ইরান যুদ্ধের ছয় মাস: ছয়টি চার্টে আপনার ওপর এর প্রভাব

২৮ ফেব্রুয়ারি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা শুরু করেছে। ১ মার্চ, ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে এই যুদ্ধ মাত্র “four to five weeks” বা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হবে। তবে বাস্তবে যুদ্ধটি এখন ছয় মাস অতিক্রম করেছে। সংঘাতটি এখন সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ থেকে সরে এসে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। এই প্রণালীটি বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ।

অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা

২৫ আগস্ট, হোয়াইট হাউস তেহরানকে তাদের দাবি মানতে বাধ্য করার জন্য নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে প্রশাসন ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে তেলের চালান ব্যাহত হওয়া এবং জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

খাদ্য ও সারের বাজারে প্রভাব

  • ইরান যুদ্ধের ফলে সার ও পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাইট্রোজেন সারের বৈশ্বিক সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
  • জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট সামুদ্রিক সার বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়।
  • সারের এই সংকট উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সরাসরি কৃষক এবং খাদ্য সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলছে।

জ্বালানি ও পরিবহন সংকটের প্রভাব

হরমুজ প্রণালীতে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর ভিত্তি করেই সাধারণত পেট্রোলের দাম নির্ধারিত হয়। ২০ জুলাই, ইয়েমেনের রাজনৈতিক-ধর্মীয় গোষ্ঠী ‘হুথি’ লোহিত সাগরে অবরোধের ঘোষণা দেয়। তারা বাব আল-মানদেব প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল শিপিং রুট। ২৩ জুলাই, সৌদি আরবের দুটি তেল ট্যাঙ্কারে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছে যায়। যদিও বাব আল-মানদেব প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত, তবুও সেখানে হুথিদের হুমকি অব্যাহত রয়েছে।

বিমান ভ্রমণ ও ভোক্তা আস্থা

যুদ্ধের শুরুর সপ্তাহগুলোতে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিমান ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে। জেট ফুয়েল অপরিশোধিত তেল থেকে পরিশোধিত হয় এবং এটি এয়ারলাইন্সগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৩০% পর্যন্ত হতে পারে। এর ফলে এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের দাম বাড়াতে, জ্বালানি সারচার্জ যোগ করতে এবং ফ্লাইটের সংখ্যা কমাতে বাধ্য হয়েছে। আগস্ট মাসে মার্কিন ভোক্তা আস্থা সূচক ৭.৬% হ্রাস পেয়েছে, যা আগের দুই মাসের উন্নতির ধারাকে ব্যাহত করেছে। এই সূচকের পতনের অন্যতম কারণ হলো ইরান যুদ্ধের প্রভাবে গ্যালন প্রতি পেট্রোলের দাম ৪ ডলারের উপরে থাকা। এছাড়া, ভবিষ্যতে ব্যবসার অবস্থা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র: নেটওয়ার্ক রিপোর্টিং, রয়টার্স, এএএ, ইউএস ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটিস্টিকস, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ সেন্ট লুইস, ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, বিশ্বব্যাংক এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়।