নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে বন্যা ও ভূমিধস: নিখোঁজ বহু পর্যটকসহ শতাধিক মানুষ

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১৩ বছরের এক ব্রিটিশ কিশোরীসহ অন্তত ৩৩ জন ব্রিটিশ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ৪০ জনেরও বেশি মানুষ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উদ্ধারকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিক জানান, নদীর তীরবর্তী বসতিগুলো বন্যার তোড়ে পুরোপুরি ভেসে গেছে এবং চারদিকে কেবল ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন দৃশ্যমান। ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, হঠাৎ করেই বিশাল কাদার স্রোত তাদের দিকে ধেয়ে আসে। কয়েক ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তার স্ত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের তালিকায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা রয়েছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৪ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া মাউন্ট কৈলাসগামী ১৩৩ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রীও এই দুর্যোগের কবলে পড়ে আটকা পড়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, হিমবাহ থেকে বিশাল পরিমাণ তুষার ও বরফ ধসে পড়ার কারণেই এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বদলে দেয়ায় রাসুয়া অঞ্চলের বসতি, সড়ক ও সেতুগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিব্বতের দিকেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে এবং চীনা কর্মকর্তারা সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

নেপাল থেকে নেমে আসা পানির প্রভাবে ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশেও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিহারে ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আরও ৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপালের রাসুয়া অঞ্চলে পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও পানি নদীতে নেমে আসার পর মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে নদীর আশপাশের বসতি, সড়ক, ধাতব সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় এক স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিকের ভাষায়, যেদিকে তাকানো যাচ্ছে, সেদিকেই ধ্বংসযজ্ঞ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, কাদা, পাথর ও পানির বিশাল স্রোত আছড়ে পড়ার আগে মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে পালানোর চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়ও উঠে এসেছে ভয়াবহতার চিত্র। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পানি ও কাদা বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ার পর তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপাল ও তিব্বতের এই অঞ্চলটি মাউন্ট কৈলাসে তীর্থযাত্রার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।