যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার দীর্ঘদিনের মিত্রতার সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। বাণিজ্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন এবং তাকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। ফোর্ড ট্রাম্পকে একজন ‘বুলি’ বা ভয় দেখানো ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করে তাকে দুইবার বলেছেন যে, তিনি যেন তার (ফোর্ডের) পেছনে ‘চুমু খান’ (kiss my a–)।
বাণিজ্য শুল্ক বৃদ্ধি ও ট্রাম্পের অভিযোগ
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, আগামী জানুয়ারি মাস থেকে কানাডা থেকে আমদানিকৃত গাড়ি, ট্রাক, গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে। এর আগে শনিবারও অন্যান্য পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনার ব্যর্থতার পর কার্যকর হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, কানাডা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং কানাডাই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। যদিও যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিবেশী এই দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আমদানি করে থাকে।
কানাডার পাল্টা ব্যবস্থা ও প্রতিক্রিয়া
কানাডার অর্থমন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, কানাডীয় কর্মকর্তারা মঙ্গলবার স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন এবং কানাডার শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন। কানাডার সিটিভি নিউজের তথ্যমতে, এই ঘোষণায় পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর আগে শুক্রবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আলোচনার শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অন্যায্য শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে যা কোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কার্নি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠান নয় এবং তারা ডলারের বিপরীতে ডলার শুল্কের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেবে।
প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের কঠোর অবস্থান
- ডাগ ফোর্ড সোমবার সকালে এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, কানাডার উচিত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করা।
- ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি সিএনএন-কে বলেছেন, আমাদের অবশ্যই পাল্টা আঘাত করতে হবে।
- ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়ায় ফোর্ড এবং কার্নির সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে কানাডাকে বহন করছে কিন্তু এখন আর নয়।
- ট্রাম্প আরও হুমকি দিয়ে বলেছেন, এই ‘জোকারদের’ লাইনে আনা উচিত, অন্যথায় কানাডার জন্য পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।
- ফোর্ড এক সংবাদ সম্মেলনে পুনরায় ট্রাম্পকে ‘বুলি’ বলে অভিহিত করে বলেন, ট্রাম্প একজন হেরে যাওয়া মানুষ (loser)।
- ফোর্ড দৃঢ়তার সাথে জানান, তিনি ট্রাম্পের প্ররোচনায় পা দেবেন না এবং কানাডা কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না।
ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত ইচ্ছা হলো কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, যা কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন। বর্তমানে দুই দেশের এই বাণিজ্য যুদ্ধ শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত আক্রমণ ও রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডায় রূপ নিয়েছে। ফোর্ড তার বক্তব্যে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তার শরীরে ট্রাম্পের চেয়ে বেশি সাহস ও বুদ্ধি রয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

