স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে বেসরকারি খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তা বসুন্ধরা গ্রুপ এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতরেই ৩০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে সুবিশাল ‘বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি’, যা দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোয় এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে ১৭ ধরনের খেলার জন্য মোট ২৪টি আন্তর্জাতিক মানের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এই কমপ্লেক্সের অন্যতম আকর্ষণ হলো কিংস অ্যারেনা, যা বিশ্বমানের ক্লাবগুলোর আদলে তৈরি করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো ক্লাবের নিজস্ব মাঠে ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ম্যাচ আয়োজনের এমন সক্ষমতা আগে ছিল না, যা বসুন্ধরা কিংসকে এই অঞ্চলে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
ক্রিকেটের প্রসারেও এখানে রাখা হয়েছে বিশাল চমক। স্পোর্টস সিটিতে ৫টি সেন্টার উইকেট ও ১২টি টার্ফ পিচ রয়েছে। পাশাপাশি খুদে ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ‘বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্ক’ নামক একটি বিশ্বমানের একাডেমি। এছাড়া সাউথ জোনে ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল মালয়েশিয়া দলের বিপক্ষে এখানে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে।
ইনডোর গেমসের জন্য এখানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা জুলকান ইনডোর অ্যারেনা, যেখানে মিক্সড মার্শাল আর্টস, বক্সিং, থাই বক্সিং ও কিকবক্সিংয়ের মতো রোমাঞ্চকর খেলার সুবিধা রয়েছে। একই ছাদের নিচে ২৪টি ব্যাডমিন্টন কোর্ট, ১৬টি দৃষ্টিনন্দন প্যাডেল টেনিস কোর্ট এবং আন্তর্জাতিক মানের কাঠের ফ্লোরে তৈরি বাস্কেটবল কোর্ট স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এই কোর্টগুলোকে রূপান্তর করে একসঙ্গে আটটি মিনি ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সাঁতারের জন্য এখানে রয়েছে অলিম্পিক স্ট্যান্ডার্ড সুইমিংপুল। ৫০ মিটারের এই পুলটি প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, যার পাশাপাশি আলাদা পুল ও ডাইভিং সুবিধা রয়েছে। শরীরচর্চার জন্য রয়েছে আমেরিকার বিখ্যাত গোল্ডস জিম, যা ইতালীয় ব্র্যান্ড টেকনোজিমের অত্যাধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত। তিনতলা বিশিষ্ট এই জিমনেশিয়ামে সনা, জ্যাকুজি, স্টিম রুম ও হিমালয়ান সল্ট বাথের মতো অভিজাত সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
সাউথ জোনের বিস্তীর্ণ পরিসরে বাস্কেটবল, কাবাডি, ভলিবল, ফুটসাল ও রোলার স্কেটিংয়ের মতো খেলার জন্য আলাদা জোন তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া সবুজে ঘেরা আন্তর্জাতিক মানের গলফ ড্রাইভিং রেঞ্জ ও একটি পূর্ণাঙ্গ হকির মাঠও স্পোর্টস সিটির নান্দনিকতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন ও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির ফসল এই স্পোর্টস সিটি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আরেক কারিগর হলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ-এবিজির চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর। একটি সুস্থ জাতি ও সম্ভাবনাময় প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে।
ক্রীড়া অবকাঠামোর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ২২৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। এছাড়া করপোরেট খাতেও পরিবর্তন এসেছে, যার অংশ হিসেবে এবি ব্যাংকের এমডি হিসেবে আরিফ বিল্লাহ আদিল চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি, নেইমার, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে সারা বিশ্বে যে উন্মাদনা, তার প্রতিফলন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাঠগুলোতেও দেখা যাবে বলে স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা। হয়তো সেই দিন খুব বেশি দূরে নয়, যখন বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের নাম উচ্চারিত হবে এবং বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশ এক নতুন আত্মপরিচয় নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পায়ের জাদুতে নেইমার, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামালরাও এখন মহাতারকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুরো বিশ্বে মানুষের অন্তরে ফুটবলকে গেঁথে দিয়েছেন তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফুটবলের পাশাপাশি বিশ্বের কমবেশি প্রায় সব দেশই এখন বিভিন্ন খেলায় এগিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খেলোয়াড়রা নিজেদের দেশকে যেমন অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তেমনই অবদান রাখছেন অর্থনীতিতেও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও প্রশ্ন থেকে যায়, খেলাধুলায় ঠিক কতটা এগিয়েছে দেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটু চোখ মেললেই দেখা যায়, খেলার প্রতি শিশু-কিশোরদের কতটা অনুরাগ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যে স্বপ্নের কথা একবারও ভাবেনি কেউ, সেটাই আজ দৃশ্যমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে যেন বিস্ময়ের শেষ নেই।

