যুক্তরাষ্ট্রের লেক মিডের পানি কমায় বেরিয়ে আসছে একের পর এক রহস্যময় নিদর্শন

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের কাছে অবস্থিত লেক মিডে গত ১৬ আগস্ট মানুষের দেহাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির বৃহত্তম এই জলাধারের পানির স্তর ক্রমাগত কমে যাওয়ায় তলদেশ থেকে বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন রহস্যময় বস্তু। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বোল্ডার বিচে পাওয়া এই দেহাবশেষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ক্লার্ক কাউন্টি করোনার অফিস বর্তমানে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি মৃত্যুর কারণ ও ধরন নির্ধারণে কাজ করছে। লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, এটি একটি অ-অপরাধমূলক মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে লেক মিডের পানির উচ্চতা বর্তমানে নজিরবিহীনভাবে নিচে নেমে গেছে, যার ফলে জলাধারের নতুন নতুন এলাকা এবং তলদেশের ধ্বংসাবশেষ উন্মোচিত হচ্ছে। এর আগেও এই শুকিয়ে যাওয়া হ্রদ থেকে একাধিক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২২ সালে হেমেনওয়ে হারবার এলাকায় নৌকায় ভ্রমণকারীরা একটি ব্যারেলের ভেতর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির দেহাবশেষ খুঁজে পান। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই ব্যক্তিকে সম্ভবত ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই সময়ে লেক মিডের পানি এখনকার চেয়ে অন্তত ২০ থেকে ৩০ ফুট বেশি গভীর ছিল।

একই বছরে কর্তৃপক্ষ আরও বেশ কয়েকজনের দেহাবশেষ উদ্ধার করে, যাদের মধ্যে ২০০২ সালে নিখোঁজ হওয়া এক ব্যক্তি, ১৯৭৪ সালে ডুবে যাওয়া এক ব্যক্তি এবং ১৯৯৮ সালে নিখোঁজ হওয়া আরেকজন রয়েছেন, যার মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাস ভেগাস স্ট্রিপ থেকে মাত্র ২০ মাইল দূরে অবস্থিত হওয়ায় এই লেকে আরও দেহাবশেষ পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, বিশেষ করে অপরাধ জগতের সাথে শহরটির ঐতিহাসিক যোগসূত্রের কারণে।

পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কেবল মানুষের দেহাবশেষই নয়, বরং হ্রদের তলদেশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এবং ডুবে যাওয়া নৌকাসহ নানা ধরনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১৯৪৮ সালে বিধ্বস্ত হওয়া একটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বি-২৯ যুদ্ধবিমানও এই লেকের তলদেশে রয়েছে। পানির স্তর কমে যাওয়ার ফলে হুভার ড্যাম নির্মাণের সময় তলিয়ে যাওয়া প্রাচীন শহর এবং প্রাগৈতিহাসিক লবণের খনিগুলোর অস্তিত্বও এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।