গাজায় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হিন্দ ও তার স্বজনদের বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিবর্ষণের ঘটনার দীর্ঘ সময় পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে এই সামরিক তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন শিশুটির মা ওয়েসাম হামাদা। শুক্রবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ, সরকার কিংবা দেশটির বিচারব্যবস্থার কোনো কিছুর ওপরই তার ন্যূনতম আস্থা নেই।
হিন্দের মা জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কেবল একটি ‘বন্ধ সামরিক তদন্ত’ চান না। তার দাবি, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা থাকা প্রয়োজন এবং যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এমন একটি স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রত্যাশা করছেন, যেখানে তদন্তকারীরা নিরপেক্ষভাবে সমস্ত প্রমাণ পর্যালোচনা করবেন। তার মতে, পরিবারের জন্য কেবল একটি অভ্যন্তরীণ সামরিক তদন্ত কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাজা সিটিতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় হিন্দ তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি গাড়িতে আটকা পড়েছিল। গাড়িটিতে থাকা অন্য স্বজনরা প্রাণ হারানোর পরও হিন্দ কিছু সময় জীবিত ছিল। তাকে উদ্ধারের জন্য ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হলেও ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১২ দিন পর হিন্দ, তার পরিবারের সদস্য এবং তাকে উদ্ধারে যাওয়া দুই প্যারামেডিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথমে ওই এলাকায় তাদের কোনো সেনার উপস্থিতি থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। তবে পরবর্তী বিভিন্ন অনুসন্ধান ও প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের আশপাশে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে আসে। আইডিএফের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কথিত ব্যর্থতার বিষয়টি পর্যালোচনার পর সামরিক পুলিশের মাধ্যমে এই ফৌজদারি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হিন্দের এই ঘটনাটি গাজা যুদ্ধের অন্যতম আলোচিত ও হৃদয়বিদারক বিষয় হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহির দাবি তৈরি করেছে। তার মৃত্যুর আগে জরুরি সেবাকর্মীদের কাছে করা ফোনকলের রেকর্ডিং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে এই তদন্তের ঘোষণা আসার পর মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশ্ন তুলছে, কেন ঘটনার দুই বছরেরও বেশি সময় পর ইসরায়েলি বাহিনী নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে তদন্তের উদ্যোগ নিল।
আইডিএফ একই সময়ে গাজায় আরও একটি আলোচিত ঘটনার তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে রাফাহ এলাকায় ১৫ ফিলিস্তিনি প্যারামেডিক নিহত হওয়ার ঘটনাটিও সামরিক পুলিশের তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তবে গাজায় ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলার আরও বেশ কয়েকটি ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত না করার সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা রয়েছে। এখন আইডিএফের সামরিক পুলিশের এই তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং এর ভিত্তিতে কোনো সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তদন্তটি সামরিক পুলিশ পরিচালনা করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার আশঙ্কা, এই তদন্ত প্রকৃত সত্য উদঘাটনের বদলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা হয়ে উঠতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষায়, হিন্দ শুধু একটি সংবাদঘটনা নয়, সে তার সন্তান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে সে জরুরি সেবাকর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সাহায্যের জন্য আকুতি জানায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই ফোনালাপের রেকর্ডিং পরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি সপ্তাহে আইডিএফ প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে তাদের সেনারা হিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘটনাটি নিয়ে পরে নির্মিত ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ চলচ্চিত্রটিও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক মনোযোগ পায় এবং অস্কারের মনোনয়ন লাভ করে।

