ভেনিজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল রিজার্ভের নিয়ন্ত্রণ পেল যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রাতে ভেনিজুয়েলার সাথে একটি নতুন তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে, বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে সমন্বিতভাবে এই চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। এর মাধ্যমে কোনো প্রকার সরকারি খরচ ছাড়াই ভেনিজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল প্রমাণিত তেল রিজার্ভের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই মাস আগে এই ঘোষণাটি এমন সময়ে এল, যখন দেশটিতে গ্যালনপ্রতি তেলের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে গত ছয় মাস ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাণিজ্যিক মজুত প্রায় নিঃশেষ হয়ে পড়েছে এবং ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি জ্বালানি মজুত সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় একটি নতুন বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ গঠিত হবে, যা রিজার্ভের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি তেল কোম্পানিতে পরিণত হবে। এই নতুন তেল জায়ান্টের ৫৫ শতাংশ কার্যকর উৎপাদন ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়া ভেনিজুয়েলার তেল ক্ষেত্রগুলোতে একটি বেসরকারি কোম্পানিকে ১০০ বছরের জন্য কনসেশন বা ইজারা দেওয়া হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও ভেনিজুয়েলার একটি বেসরকারি অপারেটরের যৌথ প্রকল্প।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে আমেরিকান এবং ভেনিজুয়েলার জনগণের জন্য একটি বড় জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এই উদ্যোগের ফলে ভেনিজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি আসবে।

ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো জ্বালানি উৎপাদনকারী শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করা এবং এই বিশাল রিজার্ভকে জাতীয় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের শুরুতে এক বড় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনিজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। এরপর থেকেই ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার তেল শিল্প পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন।

বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রমাণিত তেল রিজার্ভের দেশ ভেনিজুয়েলা। গত জানুয়ারিতে দেশটির আইনপ্রণেতারা রদ্রিগেজের সমর্থনে আইন পরিবর্তন করে বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য তেল শিল্পে অংশগ্রহণ সহজতর করেছেন।