ডলি পার্টনের ভক্তদের কাছে “আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ” গানটি যে তারই সৃষ্টি, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে এই গানটি রেডিও এবং সংগীতের দুনিয়ায় এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তবে এই কিংবদন্তি শিল্পী, যিনি গত ২৫ আগস্ট ৮০ বছর বয়সে ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মৃত্যুবরণ করেন, তিনি কেবল নিজের জন্যই গান লেখেননি। কেনি রজার্স থেকে শুরু করে তার ধর্মকন্যা মাইলি সাইরাস পর্যন্ত অসংখ্য শিল্পীর ক্যারিয়ারে তার লেখা গানের অবদান অনস্বীকার্য।
একজন প্রখ্যাত গীতিকার ও গল্পকার
একজন গায়িকা, অভিনেত্রী এবং সমাজসেবী হিসেবে ডলি পার্টনের অর্জন অসামান্য। তবে সবার আগে তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত মেধাবী গীতিকার এবং গল্পকার। বিলবোর্ড হট কান্ট্রি সং চার্টে ২৫ বার এক নম্বর স্থান দখল করার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি, যা যেকোনো নারী কান্ট্রি সংগীতশিল্পীর জন্য একটি রেকর্ড। তার এই সৃজনশীলতা কেবল নিজের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং অন্যদের কণ্ঠেও তা পেয়েছে নতুন প্রাণ।
হ্যানক উইলিয়ামস জুনিয়র: ‘আই অ্যাম ইন নো কন্ডিশন’ (১৯৬৭)
ডলি পার্টন তার অনেক গানই অন্য শিল্পীদের দেওয়ার পাশাপাশি নিজের অ্যালবামেও রাখতেন। ১৯৬৭ সালের অ্যালবাম “হ্যালো, আই’ম ডলি”-তে তিনি এই গানটি গেয়েছিলেন। তবে হ্যানক উইলিয়ামস জুনিয়র তার কণ্ঠে গানটির বিষাদময় সুর এবং পেডাল স্টিল গিটারের মূর্ছনায় এক অন্যরকম আবেগ ফুটিয়ে তুলেছিলেন। বিশেষ করে যখন তিনি গেয়েছিলেন, “আমার কাছে তোমাকে দেওয়ার মতো কোনো হাসি নেই,” তখন শ্রোতারা তার গায়কীর গভীরতা অনুভব করতে পেরেছিলেন।
টিনা টার্নার: ‘দেয়ার উইল অলওয়েজ বি মিউজিক’ (১৯৭৪)
টিনা টার্নার যখন তার স্বামী আইকের সাথে কাজ ছেড়ে একক ক্যারিয়ার শুরু করেন, তখন তিনি কান্ট্রি সংগীতের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তার ১৯৭৪ সালের অভিষেক অ্যালবাম “টিনা টার্নস দ্য কান্ট্রি অন!”-এ ডলি পার্টনের লেখা একটি পিয়ানো ব্যালাড “দেয়ার উইল অলওয়েজ বি মিউজিক” অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই অ্যালবামটি পরের বছর গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছিল।
এমিলু হ্যারিস: ‘টু ড্যাডি’ (১৯৭৮)
এমিলু হ্যারিস তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই ডলি পার্টনের এই হৃদয়স্পর্শী গানটি গেয়েছিলেন। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের সাক্ষী এক কিশোরীর দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা এই গানটি হ্যারিসের কণ্ঠে এক অনন্য উচ্চতা পায়। ১৯৭৮ সালে তার “কোয়ার্টার মুন ইন সেন্ট টাউন” অ্যালবামে এটি জায়গা করে নেয় এবং বিলবোর্ডের শীর্ষ ৫-এ স্থান পায়। ডলি পার্টন পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে তার সংকলন “দ্য এসেনশিয়াল ডলি পার্টন, ভল. ১”-এ গানটি অন্তর্ভুক্ত করেন।
কেনি রজার্স: ‘দ্য স্ট্রেঞ্জার’ (১৯৮৪)
আশির দশকের কান্ট্রি সংগীতের আমেজে তৈরি এই গানটি ছিল এক দীর্ঘ হারানো বাবার সাথে সন্তানের সাক্ষাতের গল্প। কেনি রজার্স এবং ডলি পার্টনের মধ্যে সৃজনশীল বোঝাপড়া ছিল চমৎকার, যা এই গানে স্পষ্ট। রজার্সের গম্ভীর এবং উষ্ণ কণ্ঠের জন্য গানটি যেন বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। একই বছর তারা “ওয়ান্স আপন আ ক্রিসমাস” অ্যালবামটিও প্রকাশ করেছিলেন।
হুইটনি হিউস্টন: ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ (১৯৯২)
এই গানটি ডলি পার্টনের জন্য এক অশেষ সাফল্যের উৎস। ১৯৭৪ এবং ১৯৮৪ সালে ডলি নিজেই বিলবোর্ডের শীর্ষে গানটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে ১৯৯২ সালে “দ্য বডিগার্ড” সিনেমার জন্য ডেভিড ফস্টারের সংগীতায়োজনে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে এটি এক নতুন রূপ পায়। ডলি তার ব্যবসায়িক সহযোগী পোর্টার ওয়াগনারকে বিদায় জানাতে গানটি লিখেছিলেন, কিন্তু সিনেমায় এটি বিচ্ছেদের এক করুণ সুর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকে এই গান থেকে ডলি পার্টন ১ কোটি ডলারেরও বেশি রয়্যালটি আয় করেছিলেন।
মাইলি সাইরাস ও ডলি পার্টন: ‘রেইনবো ল্যান্ড’ (২০১৭)
গানটি শুরু হয় ডলি পার্টনের একটি বার্তার মাধ্যমে, যা তার মৃত্যুর পর এক বিষাদময় অথচ সুন্দর স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপরই মাইলি সাইরাসের সাথে মিলে তারা গেয়েছেন এক ইতিবাচক বার্তা। ২০২৩ সালে উইসকনসিনের একটি স্কুলে গানটি নিষিদ্ধ করা হলে এটি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে, রংধনু এবং এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সাথে এর সংযোগ থাকায় এটি বিতর্কিত হতে পারে, যদিও মাইলি এবং ডলি বরাবরই এই সম্প্রদায়ের সমর্থক ছিলেন।
