কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাজ্য পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় টেলিকম নির্বাহীদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো আধুনিকায়নে দেশটি অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। যদিও ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ইউরোপের ধীরগতির দেশগুলোর তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে, তবে ৫জি নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন সেই গতি ধরে রাখতে পারছে না।
কনজ্যুমার গ্রুপ ‘হুইচ?’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র এবং জি৭-এর অন্য সব দেশের তুলনায় যুক্তরাজ্যের মোবাইল কভারেজ সবচেয়ে দুর্বল। নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্সের দিক থেকে দেশটি বিশ্বে ৫৭তম, ডাউনলোড গতির ক্ষেত্রে ৭০তম এবং ভিডিও কল বা গেমিংয়ের মতো কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নির্ভরযোগ্যতার বিচারে ৫৫তম অবস্থানে রয়েছে।
ভোডাফোনথ্রি-এর নেটওয়ার্ক পরিচালক আন্দ্রেয়া দোনা বর্তমান নেটওয়ার্কের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান প্রযুক্তি ও সেবার মানই যেখানে সন্তোষজনক নয়, সেখানে এআই-এর ব্যাপক ব্যবহারের ফলে যে বাড়তি চাপ তৈরি হবে, তা সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের নেটওয়ার্কের মান বর্তমানে লজ্জাজনক পর্যায়ে রয়েছে। ইই, ওটু এবং ভোডাফোনথ্রি-এর মতো অপারেটররা যে সেবা দিতে সক্ষম, তার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি।
দোনা সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে বড় কোনো জনসমাগমস্থলে মানুষ যে ধরনের নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের সম্মুখীন হয়, এআই যুগে সেই পরিস্থিতিই স্থায়ী রূপ নিতে পারে। অন্য এক টেলিকম নির্বাহী জানান, এআই ও কানেক্টিভিটির বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, এটি অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় প্রতিযোগিতার একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হবে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে যখন এআই প্রতিটি ডিভাইসে যুক্ত হবে, তখন নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যুক্তরাজ্যের প্রধান মোবাইল অপারেটররা ৫জি স্ট্যান্ড-অ্যালোন প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। এর অংশ হিসেবে ভোডাফোনথ্রি তাদের মাস্ট বা টাওয়ার আধুনিকায়নে ১১ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে পরিকল্পনা সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ভোডাফোনথ্রি তাদের বিদ্যমান নেটওয়ার্কের ৩০ শতাংশ টাওয়ার কমিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করলেও, বিদ্যমান সাইটগুলো আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধের মুখে পড়ছে। তাদের প্রয়োজনীয় আপগ্রেডের ৯৬ শতাংশই বিদ্যমান সাইটে করার কথা, কিন্তু অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেত্রে পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
দোনা মনে করেন, পরিকল্পনা সংস্কারের মাধ্যমে কোনো সরকারি অর্থ ব্যয় ছাড়াই প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এটি নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রথম ১০০ দিনের একটি বড় অর্জন হতে পারে। এছাড়া মোবাইল অপারেটরদের দাবি, তাদের নেটওয়ার্ককে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো হিসেবে গণ্য করা হলেও, ডেটাসেন্টার বা জ্বালানি খাতের মতো কর সুবিধা বা অন্যান্য সহায়তা তারা পাচ্ছে না।
পরিকল্পনা সংক্রান্ত এই বিলম্ব এবং ৫জি আপগ্রেডে ধীরগতি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যকে এআই-নির্ভর ট্রাফিকের বিশাল চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে অযোগ্য করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

