আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হলে অনেক আবেদনকারী হতাশ হয়ে পড়েন। কেউ মনে করেন আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া যাবে না, আবার কেউ মনে করেন শুধু নতুন করে আবেদন করলেই ভিসা পাওয়া যাবে। বাস্তবে দুটির কোনোটিই সাধারণভাবে সঠিক নয়।
বিশেষ করে অ-অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে INA Section 214(b)-এর অধীনে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। আবার কিছু আবেদন INA Section 221(g)-এর আওতায় অতিরিক্ত তথ্য বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও সময় নিতে পারে। এই দুই পরিস্থিতিকে একই বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। আমেরিকা: ভিসা, চাকরি, ইমিগ্রেশন ও জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ গাইড
এই প্রতিবেদনে আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হওয়ার পর কী করবেন, ২১৪(বি) কী, ২২১(জি) কী, কখন পুনরায় আবেদন করা যায় এবং কী ভুল এড়িয়ে চলা উচিত—এসব বিষয় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
গুরুত্বপূর্ণ: ভিসার সিদ্ধান্ত প্রতিটি আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। তাই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে না।
আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হলে কি আবার আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে আবার আবেদন করা যায়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কোনো অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারী ২১৪(বি)-এর অধীনে প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি পুনরায় আবেদন করতে পারেন, বিশেষ করে যদি আগের আবেদনের পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন ঘটে থাকে বা নতুন তথ্য উপস্থাপন করার মতো কিছু থাকে।
তবে পুনরায় আবেদন করলেই ভিসা নিশ্চিত হবে—এমন নয়।
নতুন আবেদনও আবার মূল্যায়ন করা হবে এবং আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ভিসার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। আমেরিকা ভিসা রিজেক্টের পর আবার আবেদন করার আগে সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।
২১৪(বি) কী?
INA Section 214(b) মূলত অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বিধান।
মার্কিন আইনে সাধারণভাবে অ-অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট অ-অভিবাসী শ্রেণির জন্য যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হয়। ২১৪(বি)-এর অধীনে আবেদন প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে আবেদনকারী তার অস্থায়ী ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে কনস্যুলার কর্মকর্তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি—এমন পরিস্থিতি থাকতে পারে।
তবে প্রতিটি ২১৪(বি) প্রত্যাখ্যানের পরিস্থিতি এক নয়। তাই শুধু “ব্যাংকে টাকা কম ছিল” বা “ইন্টারভিউ খারাপ হয়েছে”—এমন একটি কারণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মার্কিন আইনে ২১৪(বি)-এর বিস্তারিত তথ্য
২১৪(বি) রিজেকশনের পর কী করবেন?
প্রথম কাজ হলো আবেগের পরিবর্তে প্রত্যাখ্যানের কারণটি বোঝা।
আপনাকে যে প্রত্যাখ্যানের নোটিশ বা তথ্য দেওয়া হয়েছে সেটি ভালোভাবে পড়ুন। সেখানে কোন আইনি ধারার অধীনে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর নিজের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করুন।
নিজেকে প্রশ্ন করুন—
- আগের আবেদনের পর কি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে?
- আপনার চাকরি বা ব্যবসার অবস্থায় কি পরিবর্তন এসেছে?
- আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য কি আরও পরিষ্কার হয়েছে?
- আগের আবেদনে কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল কি?
- নতুন কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য বা নথি রয়েছে কি?
- আগের সাক্ষাৎকারে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল কি?
এরপর সিদ্ধান্ত নিন নতুন আবেদন করা যুক্তিযুক্ত কি না।
২১৪(বি) রিজেক্ট হওয়ার পর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?
২১৪(বি)-এর পর সবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক অপেক্ষার সময় নেই।
তবে শুধু কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস অপেক্ষা করলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে—এমন কোনো নিয়ম নেই।
মূল বিষয় হলো, নতুন আবেদনের সময় আপনার পরিস্থিতিতে প্রাসঙ্গিক পরিবর্তন বা নতুন তথ্য আছে কি না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানায়, ২১৪(বি)-এর অধীনে প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তি পুনরায় আবেদন করতে পারেন যদি তিনি মনে করেন তার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন হয়েছে।
তাই “তিন মাস পর আবেদন করুন”, “ছয় মাস পর আবেদন করলেই ভিসা হবে”—এ ধরনের নির্দিষ্ট সময়ের দাবি বিশ্বাস করা উচিত নয়। আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা: বাংলাদেশিদের আবেদন, কাগজপত্র ও সাক্ষাৎকারের সম্পূর্ণ গাইড
২১৪(বি) রিজেক্টের পর আবার আবেদন করলে কি নতুন ফি দিতে হয়?
হ্যাঁ।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা আবেদন ফি সাধারণভাবে ফেরতযোগ্য নয়। ২১৪(বি)-এর পর কেউ পুনরায় আবেদন করলে নতুন আবেদন হিসেবে আবার প্রযোজ্য ভিসা আবেদন ফি দিতে হয়।
অর্থাৎ আগের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে আগের ফি নতুন আবেদনে স্থানান্তর করা যায় না। ভিসা আবেদন ফি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য
আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হওয়ার পর কী পরিবর্তন হলে পুনরায় আবেদন করবেন?
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাস্তব ও প্রাসঙ্গিক পরিবর্তন।
উদাহরণ হিসেবে কারও—
- চাকরির অবস্থায় পরিবর্তন হতে পারে
- ব্যবসার অবস্থায় পরিবর্তন হতে পারে
- আয় বা আর্থিক পরিস্থিতিতে বাস্তব পরিবর্তন হতে পারে
- ভ্রমণের পরিকল্পনায় পরিবর্তন হতে পারে
- পারিবারিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন হতে পারে
- আগের আবেদনে অনুপস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখন উপস্থাপনযোগ্য হতে পারে
তবে কোন পরিবর্তন আপনার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক, তা নির্ভর করবে আপনার ভিসার ধরন ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর।
শুধু নতুন ব্যাংক স্টেটমেন্ট বানানো বা কাগজপত্রের সংখ্যা বাড়ানোকে পরিবর্তন হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
শুধু ব্যাংকে টাকা বাড়ালেই কি আমেরিকা ভিসা পাওয়া যাবে?
না।
এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা।
ভিসা পাওয়ার জন্য সবার জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক ব্যালেন্সের নিয়ম নেই। আপনার সামগ্রিক পরিস্থিতি, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ভিসার যোগ্যতা বিবেচনায় আসতে পারে।
তাই ২১৪(বি) প্রত্যাখ্যানের পর শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের টাকা দেখালেই আগের সিদ্ধান্ত বদলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
আর্থিক নথি দিলে সেগুলো অবশ্যই বাস্তব এবং ব্যাখ্যাযোগ্য হওয়া উচিত।
২১৪(বি) রিজেক্টের পর একই তথ্য দিয়ে আবেদন করা কি ঠিক?
সাধারণভাবে শুধু একই পরিস্থিতি ও একই তথ্য নিয়ে নতুন আবেদন করার আগে ভালোভাবে ভাবা উচিত।
কারণ নতুন আবেদনেও আপনার যোগ্যতা আবার বিবেচনা করা হবে।
যদি আগের আবেদনের পর কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন না ঘটে এবং নতুন কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্যও না থাকে, তাহলে নতুন আবেদনের আগে নিজের পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা ভালো।
আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হলে কি সারাজীবনের জন্য নিষেধাজ্ঞা হয়?
না, ২১৪(বি) প্রত্যাখ্যানকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আজীবন নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
২১৪(বি)-এর অধীনে প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারী পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে বা নতুন তথ্য থাকলে পুনরায় আবেদন করতে পারেন।
তবে অন্য কোনো আইনি অযোগ্যতা বা গুরুতর সমস্যা থাকলে পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।
বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য বা প্রতারণা গুরুতর বিষয় এবং এর ফল অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করেছে যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য বা প্রতারণা ভিসা স্থায়ীভাবে প্রত্যাখ্যান বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের কারণ হতে পারে।
২২১(জি) কি ২১৪(বি)-এর মতো?
না।
দুটি বিষয়কে আলাদা করে বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু ভিসা আবেদন সাক্ষাৎকারের পর Administrative Processing-এর জন্য অতিরিক্ত সময় নিতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, কিছু আবেদনকে সাক্ষাৎকারের পর অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জন্য নেওয়া হয় এবং আবেদনকারীকে এ বিষয়ে জানানো হয়।
তাই ২২১(জি)-এর পরিস্থিতি দেখেই সেটিকে ২১৪(বি)-এর মতো চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যান হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
আপনার হাতে দেওয়া নোটিশে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেটিই অনুসরণ করা উচিত।
২২১(জি) হলে কী করবেন?
যদি আপনার আবেদন ২২১(জি)-এর অধীনে অতিরিক্ত প্রক্রিয়া বা নথির জন্য আটকে থাকে, তাহলে নোটিশে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
প্রয়োজন হলে—
- চাওয়া নথি জমা দিন
- অতিরিক্ত তথ্য দিন
- নির্ধারিত সময়সীমা থাকলে তা মেনে চলুন
- দূতাবাসের নির্দেশনা অনুসরণ করুন
- আবেদন স্ট্যাটাস সম্পর্কে সরকারি চ্যানেল ব্যবহার করুন
২২১(জি) দেখলেই নতুন করে ভিসা আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আগে নোটিশে কী বলা হয়েছে তা বুঝুন।
আমেরিকা ভিসা রিজেক্টের পর আবার DS-160 পূরণ করতে হবে?
নতুন করে আবেদন করলে সাধারণত নতুন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। আপনার ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য আবেদনপত্র ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।
আগের আবেদনের তথ্যের সঙ্গে নতুন আবেদনের তথ্য সত্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন—এই তথ্য গোপন করার চেষ্টা করা উচিত নয়।
আমেরিকা ভিসা রিজেক্টের পর কীভাবে নতুন আবেদন প্রস্তুত করবেন?
নতুন আবেদন করার আগে একটি ছোট চেকলিস্ট অনুসরণ করতে পারেন।
১. আগের প্রত্যাখ্যানের কারণ বুঝুন
কোন ধারায় প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তা দেখুন।
২. নিজের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করুন
আগের আবেদনের পর বাস্তব কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না দেখুন।
৩. নতুন তথ্য থাকলে প্রস্তুত করুন
প্রাসঙ্গিক ও সত্য তথ্য থাকলে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন।
৪. DS-160 সতর্কভাবে পূরণ করুন
ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য এড়িয়ে চলুন।
৫. সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুত হন
আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও নিজের পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার থাকুন।
৬. ভুয়া নথি ব্যবহার করবেন না
কোনোভাবেই জাল বা মিথ্যা কাগজপত্র ব্যবহার করবেন না।
৭. সরকারি তথ্য অনুসরণ করুন
দালাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অযাচাইকৃত তথ্যের পরিবর্তে সরকারি উৎসকে অগ্রাধিকার দিন।
আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হলে দালালের কাছে যাবেন?
সতর্ক থাকুন।
কেউ যদি বলে—
“আমি ১০০ শতাংশ ভিসা করিয়ে দেব।”
“আমার বিশেষ লোক আছে।”
“২১৪(বি) সমস্যা আমি ঠিক করে দেব।”
“ব্যাংকে টাকা দেখালেই ভিসা হবে।”
তাহলে এসব দাবিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দেখুন।
কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সি ভিসা নিশ্চিত করতে পারে না।
ভিসার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মার্কিন কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেওয়া হয়।
আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হওয়ার পর আবার সাক্ষাৎকার দিতে হবে?
নতুন করে আবেদন করলে আপনার ভিসার ধরন ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হতে পারে।
সাক্ষাৎকার মওকুফের নিয়ম থাকলেও তা সবার জন্য প্রযোজ্য নয় এবং বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হয়।
তাই আগের সাক্ষাৎকার হয়েছিল বলে পরের আবেদনেও সাক্ষাৎকার লাগবে না—এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়।
২০২৬ সালে আমেরিকা ভিসা আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের স্থান নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে।
সাধারণভাবে অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের নিজের নাগরিকত্বের দেশ অথবা বসবাসের দেশে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। বসবাসের দেশের ভিত্তিতে আবেদন করলে সেখানে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হতে পারে। অন্য দেশে আবেদন করলে যোগ্যতা প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে এবং অপেক্ষার সময়ও বেশি হতে পারে। ২০২৬ সালের অ-অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকারের সরকারি নির্দেশনা
আমেরিকা ভিসা রিজেক্টের পর সবচেয়ে বড় ভুলগুলো কী?
একই ভুল আবার করা
আগের আবেদনের দুর্বলতা না বুঝে নতুন আবেদন করা।
মিথ্যা তথ্য দেওয়া
আগের প্রত্যাখ্যান বা ব্যক্তিগত তথ্য গোপন করার চেষ্টা করা।
ভুয়া নথি তৈরি করা
এটি অত্যন্ত গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শুধু ব্যাংক ব্যালেন্সের ওপর নির্ভর করা
ভিসা সিদ্ধান্তকে একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক ব্যালেন্সের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়।
দালালের “নিশ্চিত ভিসা” কথায় বিশ্বাস করা
কোনো ব্যক্তি ভিসা নিশ্চিত করতে পারে না।
পুরোনো তথ্য ব্যবহার করা
ভিসার নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সর্বশেষ সরকারি তথ্য দেখা উচিত।
আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হওয়ার পর নতুন আবেদন করার আগে ৭টি প্রশ্ন
নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন—
১. আগেরবার কেন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল?
২. এবার কি বাস্তব কোনো পরিবর্তন হয়েছে?
৩. নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে কি?
৪. আমার DS-160-এর তথ্য সম্পূর্ণ সঠিক কি না?
৫. আমার ভ্রমণের উদ্দেশ্য পরিষ্কার কি না?
৬. আমার নথিগুলো বাস্তব ও যাচাইযোগ্য কি না?
৭. আমি কি সর্বশেষ সরকারি নিয়ম অনুসরণ করছি?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পরিষ্কার না হলে নতুন আবেদন করার আগে আরও প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।
আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হলে কি আপিল করা যায়?
২১৪(বি)-এর প্রত্যাখ্যানকে সাধারণ আপিল প্রক্রিয়া হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে যোগ্যতা থাকলে নতুন আবেদন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যায়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ২১৪(বি)-এর পর পুনরায় আবেদনের সুযোগের কথা উল্লেখ করেছে।
তবে আপনার প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি যদি ২১৪(বি) ছাড়া অন্য কোনো ধারায় হয়, তাহলে করণীয় ভিন্ন হতে পারে।
তাই প্রত্যাখ্যানের নোটিশটি ভালোভাবে পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হলে ফি কি ফেরত পাওয়া যায়?
সাধারণভাবে ভিসা আবেদন ফি ফেরতযোগ্য নয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের FAQ অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভিসা দেওয়া হোক বা প্রত্যাখ্যান করা হোক, আবেদন ফি ফেরত দেওয়া হয় না। ২১৪(বি)-এর পর পুনরায় আবেদন করলে আবার প্রযোজ্য আবেদন ফি দিতে হয়।
আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হলে আবার কখন আবেদন করবেন?
এর উত্তর সবার জন্য একই নয়।
শুধু সময় পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার চেয়ে নিজের পরিস্থিতিতে বাস্তব পরিবর্তন হয়েছে কি না সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যদি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে থাকে বা নতুন প্রাসঙ্গিক তথ্য থাকে, তখন পুনরায় আবেদন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হলে কি আবার আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ। বিশেষ করে ২১৪(বি)-এর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে বা নতুন তথ্য থাকলে পুনরায় আবেদন করা যায়।
২১৪(বি) মানে কি ভিসা জালিয়াতি?
না। ২১৪(বি) এবং প্রতারণা বা মিথ্যা তথ্যের বিষয় এক নয়। প্রত্যাখ্যানের সঠিক আইনি ভিত্তি নোটিশে দেখুন।
২১৪(বি) রিজেক্টের পর কতদিন পর আবেদন করব?
সবার জন্য নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক অপেক্ষার সময় নেই। পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বা নতুন প্রাসঙ্গিক তথ্য থাকলে পুনরায় আবেদন বিবেচনা করা যেতে পারে।
২১৪(বি) রিজেক্ট হলে কি নতুন ফি দিতে হবে?
হ্যাঁ। নতুন আবেদন করলে প্রযোজ্য আবেদন ফি আবার দিতে হয়। আগের আবেদন ফি সাধারণভাবে ফেরতযোগ্য নয়।
২২১(জি) কি ভিসা রিজেক্ট?
২২১(জি)-এর পরিস্থিতি ২১৪(বি)-এর মতো নয়। কোনো আবেদন অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা তথ্যের প্রয়োজনের কারণে আরও সময় নিতে পারে। আপনার নোটিশের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
আমেরিকা ভিসা রিজেক্ট হলে কি সারাজীবন আর আবেদন করা যাবে না?
না। ২১৪(বি)-এর ক্ষেত্রে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি নতুন আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়িত হবে।

