ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগেই সতর্ক করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। জেরুজালেমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন। নেতানিয়াহু জানান, সেই বৈঠকে ইরানকে মোকাবিলা করার জন্য তিনটি সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তিনি ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ আরও জোরালো করা প্রয়োজন।
নেতানিয়াহুর মতে, ইরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তি হলে ইসরায়েলের কোনো আপত্তি নেই, তবে দেশটির বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতা হওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি ট্রাম্পকে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে ইরানের ওপর চাপ আরও কঠোর করার কথা বলেছিলেন। এদিকে, সোমবার ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল এবং শিপিং খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বুধবার ট্রাম্প ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলকে সমর্থন জানিয়ে দাবি করেন, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বিজয়ের পথে রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং সেখান থেকে মাইনগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থা তারা সফলভাবে পুনর্গঠন করেছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে নতুন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজও সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই পুনর্গঠন ও নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার জটিল কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

