নাসায় ইন্টার্নশিপের তিন দিনেই নতুন গ্রহ আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিলেন ১৭ বছরের কিশোর

নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্ন হিসেবে কাজ শুরু করার মাত্র তিন দিনের মাথায় এক বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছেন ১৭ বছর বয়সী উলফ কুকিয়ার। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের স্কারসডেল হাইস্কুলের এই শিক্ষার্থী যখন নাসার টিইএসএস (TESS) মহাকাশ টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করছিলেন, তখনই তার নজরে আসে পৃথিবী থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরের এক অদ্ভুত গ্রহের সংকেত।

কুকিয়ারের মূল দায়িত্ব ছিল এমন নক্ষত্রজোড়ার তথ্য খতিয়ে দেখা, যেখানে একটি নক্ষত্র অন্যটির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আলো আড়াল করে। তথ্য বিশ্লেষণের এক পর্যায়ে তিনি লক্ষ্য করেন, আলোর এই পরিবর্তন কেবল নক্ষত্রের গ্রহণের কারণে ঘটছে না। আরও গভীর পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, নক্ষত্র দুটির চারপাশে একটি গ্রহ আবর্তিত হচ্ছে। টিওআই ১৩৩৮ বি (TOI 1338 b) নামের এই গ্রহটি নাসার টিইএসএস মিশনের মাধ্যমে আবিষ্কৃত প্রথম ‘সার্কামবাইনারি’ গ্রহ, যা মূলত দুটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘোরে।

আকারের দিক থেকে টিওআই ১৩৩৮ বি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৯ গুণ বড়, যা নেপচুন ও শনির মাঝামাঝি। পিক্টর নক্ষত্রমণ্ডলের এই নক্ষত্রজোড়া একে অপরকে ১৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে, আর গ্রহটি তাদের চারপাশে একবার ঘুরে আসতে সময় নেয় প্রায় ৯৫ দিন। যখন গ্রহটি বড় নক্ষত্রটির সামনে দিয়ে অতিক্রম করে, তখন নক্ষত্রটির আলো কিছুটা কমে যায়; এই আলোর তারতম্য বিশ্লেষণ করেই কুকিয়ার গ্রহটির অস্তিত্ব শনাক্ত করেন।

নাসার তথ্যমতে, টিওআই ১৩৩৮ বি সম্ভবত একটি গ্যাসীয় গ্রহ এবং এতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে দুটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত গ্রহের গঠন ও গতিবিধি নিয়ে গবেষণায় এই আবিষ্কারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুকিয়ারের এই অসাধারণ পর্যবেক্ষণ পরবর্তী সময়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হয়ে ওঠে এবং তিনি ওই গ্রহ নিয়ে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের অন্যতম সহলেখক হিসেবেও স্বীকৃতি পান। সাধারণত ইন্টার্নশিপের শুরুর দিনগুলো নতুন কাজের সাথে মানিয়ে নিতেই কেটে যায়, কিন্তু উলফ কুকিয়ার সেই অল্প সময়ের মধ্যেই মহাকাশের ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরের এক নতুন পৃথিবীর সন্ধান পাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গ্রহটির নাম দেওয়া হয় টিওআই ১৩৩৮ বি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথমে তার ধারণা হয়েছিল, একটি নক্ষত্র অন্যটির সামনে চলে যাওয়ায় এই পরিবর্তন ঘটেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সংকেতটির সময়ের হিসাব সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে মিলছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমন গ্রহকে অনেক সময় ‘দুই সূর্যের গ্রহ’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি বসবাসযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সঠিক দূরত্ব ও পরিবেশ থাকলে এ ধরনের কিছু গ্রহে বাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।