যুক্তরাজ্যের সরকারি কোষাগারে জুলাই মাসে অপ্রত্যাশিতভাবে ১.৮ বিলিয়ন পাউন্ডের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি চ্যান্সেলর জন হিলির জন্য তার প্রথম বাজেট প্রস্তুতির পথে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অথচ অর্থনীতিবিদরা ধারণা করেছিলেন, জুলাই মাসে সরকারি ঘাটতি শূন্যের কোঠায় থাকবে, কারণ এই সময়ে সাধারণত স্ব-মূল্যায়ন আয়কর থেকে সরকারের কোষাগারে বড় অংকের অর্থ জমা হয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে ১৭.১ বিলিয়ন পাউন্ড স্ব-মূল্যায়ন কর আদায় হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৭ বিলিয়ন পাউন্ড বেশি। তবে অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) জানিয়েছে, কর আদায় বাড়লেও সরকারি ব্যয় আয়ের চেয়ে বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ঘাটতি এড়ানো সম্ভব হয়নি। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬.৭ বিলিয়ন পাউন্ডে, যা গত বছরের তুলনায় কম হলেও অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটির পূর্বাভাসের চেয়ে ২.৩ বিলিয়ন পাউন্ড বেশি।
আগামী ২৮ অক্টোবর জন হিলি তার প্রথম বাজেট ঘোষণা করবেন। মার্চ মাসে র্যাচেল রিভসের বসন্তকালীন বিবৃতির তুলনায় বর্তমানে অর্থনীতির অবস্থা কিছুটা নাজুক বলে মনে করা হচ্ছে। সে সময় রিভসের হাতে ২৩.৬ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি বাফার বা অতিরিক্ত তহবিল ছিল, কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ধীরগতিসম্পন্ন প্রবৃদ্ধি এবং সরকারি বন্ডের সুদ বাড়ার কারণে সেই তহবিলের একটি বড় অংশ খরচ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ডব্লিউপিআই স্ট্র্যাটেজির প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন বেক জানান, দশ বছর মেয়াদী গিল্ট ইল্ড ৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা জ্বালানি-সম্পর্কিত মূল্যস্ফীতির উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে। এর ফলে বিদ্যমান ঋণের পুনঃঅর্থায়নের সময় সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় আরও বাড়বে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ এবং আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো প্রতিশ্রুতি পূরণের বাড়তি চাপও সরকারের ওপর রয়েছে।
জুলাই মাসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.৯৮ ট্রিলিয়ন পাউন্ড, যা জিডিপির ৯৪ শতাংশ এবং গত বছরের তুলনায় ৯৬ বিলিয়ন পাউন্ড বেশি। লেবার পার্টির অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ঋণ বেড়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে জন হিলি বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা অপরিহার্য। তিনি আরও জানান, জি-৭ভুক্ত অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাজ্য দ্রুত ঘাটতি কমাচ্ছে। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে জনগণকে সহায়তা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রতিরক্ষা খাতে বার্ষিক অতিরিক্ত ১.২ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের তহবিল জোগাড় করা হিলির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জুন মাসে প্রতিরক্ষা সচিবের পদ থেকে পদত্যাগের সময় তিনি এই বিনিয়োগকে অপর্যাপ্ত বলে দাবি করেছিলেন।

