বিদেশে নতুন জীবন শুরু করতে চান এমন প্রবাসীদের জন্য ২০২৬ সালের সেরা দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক প্রবাসী নেটওয়ার্ক InterNations। প্রতিষ্ঠানটির ‘Expat Insider 2026’ জরিপে জীবনযাত্রার মান, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, কর্মসংস্থান, ব্যক্তিগত অর্থনীতি, আবাসন ও ডিজিটাল সেবাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে ৩১টি দেশ ও গন্তব্য মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এবারের তালিকায় টানা তৃতীয় বছরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে পানামা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মেক্সিকো, আর তৃতীয় হয়েছে থাইল্যান্ড। শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ব্রাজিলও। জরিপে দেখা গেছে, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ও তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।
২০২৬ সালে প্রবাসীদের জন্য সেরা ১০ দেশ
১. পানামা
২. মেক্সিকো
৩. থাইল্যান্ড
৪. সংযুক্ত আরব আমিরাত
৫. ব্রাজিল
৬. স্পেন
৭. সিঙ্গাপুর
৮. পর্তুগাল
৯. মালয়েশিয়া
১০. লুক্সেমবার্গ
পানামা: টানা তৃতীয়বার শীর্ষে
কর্মসংস্থান ও ব্যক্তিগত অর্থনীতির সূচকে প্রথম স্থান অর্জন করেছে পানামা। দেশটিতে বসবাসরত ৮৭ শতাংশ প্রবাসী জানিয়েছেন, বিদেশে তাদের জীবন নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। বৈশ্বিকভাবে এই হার ৭০ শতাংশ। একই সঙ্গে ৯০ শতাংশ প্রবাসী বলেছেন, পানামায় বাসস্থান খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক সহজ।
প্রবাসীদের মতে, তুলনামূলক কম ইউটিলিটি বিল, বীমা খরচ ও সম্পত্তি কর পানামাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ও কো-ওয়ার্কিং সুবিধার কারণে দূর থেকে কাজ করাও সহজ।
মেক্সিকো: নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সবচেয়ে সহজ
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেক্সিকো ‘Ease of Settling In’ বা নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সূচকে প্রথম হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৩ শতাংশ প্রবাসী জানিয়েছেন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করা সহজ। বৈশ্বিক গড় যেখানে মাত্র ৩৯ শতাংশ।
কম জীবনযাত্রার ব্যয়, স্থানীয়দের আন্তরিকতা এবং শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন দেশটিকে প্রবাসীদের কাছে জনপ্রিয় করেছে। তবে নিরাপত্তার সূচকে মেক্সিকোর অবস্থান তুলনামূলক নিচে। ৩১টি দেশের মধ্যে নিরাপত্তায় দেশটি ২৫তম হয়েছে।
থাইল্যান্ড: সবচেয়ে সুখী প্রবাসীদের দেশ
তৃতীয় স্থানে থাকা থাইল্যান্ডে প্রবাসীদের সন্তুষ্টির হার সবচেয়ে বেশি। জরিপ অনুযায়ী, দেশটিতে বসবাসরত ৮৬ শতাংশ প্রবাসী তাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট।
জীবনযাত্রার ব্যয়ের দিক থেকেও থাইল্যান্ড সর্বোচ্চ স্কোর পেয়েছে। ৮৫ শতাংশ প্রবাসী দেশটির জীবনযাত্রার ব্যয়কে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। সাশ্রয়ী খাবার, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, আধুনিক নগরজীবন এবং স্থানীয় জীবনধারা থাইল্যান্ডের জনপ্রিয়তার বড় কারণ।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ক্যারিয়ার সম্ভাবনা, ভিসা সুবিধা এবং প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সেবার ক্ষেত্রে দেশটি উচ্চ নম্বর পেয়েছে।
দুবাইসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বসবাসরত প্রবাসীরা নিরাপত্তা, আরামদায়ক জীবন এবং আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশকে বড় সুবিধা হিসেবে দেখছেন। অনেক প্রবাসীর মতে, অন্যান্য দেশের তুলনায় বিদেশিদের জন্য বসবাস ও কর্মসংস্থানের পরিবেশ এখানে তুলনামূলক সহজ।
ব্রাজিল: মানুষের উষ্ণতায় মুগ্ধ প্রবাসীরা
এবারই প্রথম শীর্ষ পাঁচে উঠে এসেছে ব্রাজিল। সুখ, স্থানীয়দের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ, সংস্কৃতি এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটি ভালো করেছে।
ব্রাজিলে বসবাসরত অনেক প্রবাসীর মতে, স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা ও সহজে আপন করে নেওয়ার মানসিকতাই দেশটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। ভাষাগত কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তারা।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের জরিপ বলছে, শুধু বেশি আয় বা উন্নত অবকাঠামো নয়, সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা, স্থানীয় মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সহজে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখন প্রবাসীদের নতুন দেশ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।

