আমেরিকায় বাংলাদেশিদের চাকরি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে জীবন শুরু করতে চান এমন অনেক বাংলাদেশি জানতে চান—কোন পেশায় চাকরির সুযোগ বেশি, কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে, কোথায় ভালো আয় করা সম্ভব এবং চাকরি শুরু করার আগে কী কী বিষয় জানা প্রয়োজন।
তবে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শ্রমবাজারের তথ্য সাধারণত জাতীয় পর্যায়ে পেশা, কর্মসংস্থান, বেতন ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রকাশিত হয়; বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা করে “কোন চাকরিতে সবচেয়ে বেশি সুযোগ” এমন সরকারি র্যাংকিং নেই। তাই কোনো পেশাকে শুধু বাংলাদেশিদের জন্য বেশি চাহিদার বলে দাবি করা ঠিক হবে না।
বরং একজন বাংলাদেশি প্রবাসীর জন্য নিজের শিক্ষা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, ইংরেজি ভাষার সক্ষমতা, লাইসেন্স এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি—এসব বিবেচনা করে পেশা নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ ২০২৫–২০৩৫ পূর্বাভাসে নার্স প্র্যাকটিশনার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষক, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপকসহ বেশ কিছু পেশায় দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
আমেরিকায় বাংলাদেশিদের জন্য কোন চাকরি ভালো?
একজন বাংলাদেশির জন্য “ভালো চাকরি” নির্ভর করবে তার নিজের যোগ্যতা ও বৈধ কাজের অনুমতির ওপর।
কারও প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষতা থাকলে প্রযুক্তি ও তথ্যনিরাপত্তা খাত বিবেচনা করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও লাইসেন্স থাকলে স্বাস্থ্যসেবা খাতের পেশাগুলো দেখা যেতে পারে। আবার কারও কারিগরি বা নির্মাণকাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সংশ্লিষ্ট পেশায় সুযোগ খোঁজা যেতে পারে।
তাই শুধু বেশি বেতনের চাকরি খোঁজার পরিবর্তে নিজের দক্ষতার সঙ্গে মার্কিন শ্রমবাজারের চাহিদার মিল খুঁজে বের করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকা: ভিসা, চাকরি, ইমিগ্রেশন ও জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ গাইড
আমেরিকায় কোন পেশায় চাকরির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে?
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫–২০৩৫ পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ও কিছু কারিগরি পেশা রয়েছে।
সর্বশেষ তালিকায়—
- নার্স প্র্যাকটিশনার—কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪১ শতাংশ
- সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী—৩৭ শতাংশ
- ডেটা সায়েন্টিস্ট—৩৫ শতাংশ
- উইন্ড টারবাইন সার্ভিস টেকনিশিয়ান—৩০ শতাংশ
- মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজার—২৪ শতাংশ
- ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট—২৩ শতাংশ
- কম্পিউটার ও ইনফরমেশন রিসার্চ সায়েন্টিস্ট—২২ শতাংশ
- অকুপেশনাল থেরাপি অ্যাসিস্ট্যান্ট—২১ শতাংশ
- ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্ট—২১ শতাংশ
- তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষক—২১ শতাংশ
এগুলো ২০২৫–২০৩৫ সময়ের জাতীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস; এগুলো বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা কোনো পূর্বাভাস নয়। আমেরিকায় দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর সরকারি তালিকা
স্বাস্থ্যসেবা খাতে কেন চাকরির সুযোগ বাড়ছে?
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতের প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫–২০৩৫ সময়ে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির খাতগুলোর একটি হতে পারে। একই সময়ে স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাতেও দ্রুত প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে চাইলে শুধু পূর্বের অভিজ্ঞতা থাকলেই সবসময় যথেষ্ট নাও হতে পারে। সংশ্লিষ্ট পেশার শিক্ষাগত যোগ্যতা, লাইসেন্স, সার্টিফিকেশন ও অঙ্গরাজ্যের নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন।
আমেরিকায় প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশিদের সুযোগ কেমন?
প্রযুক্তি খাত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষ করে ডেটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কম্পিউটার গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত পেশাগুলোতে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
২০২৫–২০৩৫ সালের BLS পূর্বাভাসে ডেটা সায়েন্টিস্টের কর্মসংস্থান ৩৫ শতাংশ এবং তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকের কর্মসংস্থান ২১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব পেশায় প্রবেশের জন্য সাধারণত নির্দিষ্ট শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতে পারে।
আমেরিকায় নির্মাণ ও কারিগরি চাকরির সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি পেশাতেও বড় শ্রমবাজার রয়েছে।
২০২৫ সালের BLS তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণ ও উত্তোলন পেশাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬.৪ মিলিয়ন কর্মসংস্থান ছিল। এই বড় পেশাগোষ্ঠীর মধ্যে নির্মাণ শ্রমিক এবং নির্মাণ ও উত্তোলন কাজের প্রথম সারির তত্ত্বাবধায়কসহ বিভিন্ন পেশা রয়েছে।
কারও বাংলাদেশে নির্মাণ, বৈদ্যুতিক কাজ, যন্ত্রপাতি মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ বা সংশ্লিষ্ট কারিগরি অভিজ্ঞতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে একই বা কাছাকাছি পেশায় কাজের সম্ভাবনা খুঁজে দেখা যেতে পারে।
তবে কাজের দায়িত্ব, প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা পেশা ও অঙ্গরাজ্য অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
আমেরিকায় পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে চাকরি
যুক্তরাষ্ট্রের বড় শ্রমবাজারের একটি অংশ হলো পরিবহন ও উপকরণ স্থানান্তর-সংশ্লিষ্ট কাজ।
BLS-এর ২০২৫ সালের বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কর্মীদের তথ্যেও দেখা যায়, বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কর্মীদের মধ্যে উৎপাদন, পরিবহন ও উপকরণ স্থানান্তর পেশাগোষ্ঠীতে উল্লেখযোগ্য অংশ কাজ করেন।
এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশিদের জন্য নির্দিষ্টভাবে এই খাত সবচেয়ে ভালো। বরং এটি দেখায় যে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে অভিবাসী কর্মীরা বিভিন্ন ধরনের পেশায় কাজ করেন।
আমেরিকায় বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কর্মীরা কোন ধরনের চাকরি করেন?
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে জন্মগ্রহণকারী পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা, পেশাগত ও সংশ্লিষ্ট পেশায় ৩৬.৮ শতাংশ এবং সেবা পেশায় ২১.২ শতাংশ কর্মরত ছিলেন।
এছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদ, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ পেশায় ১৩.৩ শতাংশ এবং উৎপাদন, পরিবহন ও উপকরণ স্থানান্তর পেশায় ১৫.১ শতাংশ ছিলেন।
এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কর্মীরা একাধিক পেশাগত খাতে কাজ করছেন।
তবে এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশিদের আলাদা করে নির্দেশ করে না।
আমেরিকায় বাংলাদেশিদের চাকরির ক্ষেত্রে শিক্ষার গুরুত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে শিক্ষা ও দক্ষতা আয়ের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
BLS-এর ২০২৫ সালের বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বিদেশে জন্মগ্রহণকারী পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যে ব্যাচেলর ডিগ্রি বা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা কর্মীদের মাঝারি সাপ্তাহিক আয় ছিল ১,৭৬২ ডলার, যেখানে হাইস্কুলের নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রে তা ছিল ৭৪৫ ডলার।
তবে এটি ব্যক্তিগত বেতনের নিশ্চয়তা নয়। পেশা, অভিজ্ঞতা, শিল্প, অঞ্চল এবং অন্যান্য বিষয়েও আয় পরিবর্তিত হয়।
আমেরিকায় চাকরি করতে হলে বৈধ কাজের অনুমতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
আমেরিকায় উপস্থিত থাকলেই যে কোনো ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ধরনের চাকরি করতে পারবেন—এমন নয়।
কাজ করার অধিকার আপনার অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে। কিছু বিদেশি নাগরিককে বৈধভাবে কাজ করার জন্য Employment Authorization Document বা EAD প্রয়োজন হতে পারে, আবার কিছু ব্যক্তি নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার জন্য কাজ করার অনুমোদন নিয়ে থাকেন।
তাই চাকরি খোঁজার আগে নিজের কাজের অনুমতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার সরকারি নির্দেশনা
আমেরিকায় বাংলাদেশিরা চাকরি খুঁজবেন কীভাবে?
চাকরি খোঁজার আগে নিজের পেশা ও দক্ষতার সঙ্গে মিল রেখে লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
প্রথমে ঠিক করুন—
আপনার পেশা কী?
কোন দক্ষতা আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী?
আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?
কোন লাইসেন্স প্রয়োজন?
আপনার কাজের অনুমতি আছে কি না?
কোন অঙ্গরাজ্যে চাকরি খুঁজবেন?
কত বেতন প্রত্যাশা করছেন?
চাকরির পাশাপাশি জীবনযাত্রার খরচ কত হবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা থাকলে চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়া অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হবে।
আমেরিকায় বেশি বেতন পেলেই কি চাকরিটি ভালো?
সবসময় নয়।
ধরা যাক একটি চাকরিতে বছরে ৮০ হাজার ডলার বেতন এবং অন্য একটি চাকরিতে ৬০ হাজার ডলার বেতন। প্রথম চাকরির বেতন বেশি হলেও যদি সেখানে জীবনযাত্রার খরচ অনেক বেশি হয়, তাহলে হাতে থাকা অর্থের পার্থক্য প্রত্যাশার চেয়ে কম হতে পারে।
তাই চাকরি তুলনা করার সময় দেখুন—
- বার্ষিক বেতন
- ঘণ্টাপ্রতি বেতন
- কাজের সময়
- ওভারটাইম
- স্বাস্থ্যবীমা
- অবসর সুবিধা
- ছুটি
- যাতায়াত খরচ
- বাড়িভাড়া
- কর
- অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়
আমেরিকায় কোন চাকরিতে ভবিষ্যৎ ভালো?
একটি নির্দিষ্ট পেশাকে সবার জন্য “সবচেয়ে ভালো” বলা ঠিক হবে না।
তবে BLS-এর সর্বশেষ ২০২৫–২০৩৫ পূর্বাভাস অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্যনিরাপত্তা, ডেটা, কিছু নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কারিগরি পেশায় উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
তাই দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করলে নিজের দক্ষতার সঙ্গে এসব খাতের চাহিদার মিল খুঁজে দেখা যেতে পারে।
আমেরিকায় চাকরি খোঁজার আগে বাংলাদেশিদের যে ৭টি বিষয় জানা উচিত
১. কাজের অনুমতি নিশ্চিত করুন
আপনার অভিবাসন অবস্থায় চাকরি করার অনুমতি আছে কি না যাচাই করুন।
২. নিজের দক্ষতা মূল্যায়ন করুন
আপনি কী কাজ ভালো পারেন, সেটি আগে নির্ধারণ করুন।
৩. লাইসেন্সের প্রয়োজন আছে কি না দেখুন
স্বাস্থ্যসেবা, ড্রাইভিং এবং কিছু কারিগরি পেশায় লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।
৪. জীবনবৃত্তান্ত প্রস্তুত করুন
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারের জন্য উপযুক্তভাবে নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা উপস্থাপন করুন।
৫. অঙ্গরাজ্য নির্বাচন করুন
একই পেশায় বেতন ও জীবনযাত্রার খরচ অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে।
৬. বেতনের পাশাপাশি সুবিধা দেখুন
শুধু বেতন নয়, চাকরির অন্যান্য সুবিধাও বিবেচনা করুন।
৭. সরকারি তথ্য যাচাই করুন
চাকরি ও অভিবাসন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে সরকারি উৎস দেখুন।
আমেরিকায় বাংলাদেশিদের চাকরি: বেতন কত হতে পারে?
একটি নির্দিষ্ট “বাংলাদেশি চাকরির বেতন” বলা সম্ভব নয়।
BLS-এর সর্বশেষ জাতীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সব পেশা মিলিয়ে মাঝারি বার্ষিক বেতন ছিল ৫০,৯৮০ ডলার। তবে এটি সব পেশার জাতীয় মাঝারি বেতন; কোনো বাংলাদেশি কর্মী কত আয় করবেন তার নিশ্চয়তা নয়।
পেশা ও দক্ষতা অনুযায়ী পার্থক্য অনেক বড় হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে ২০২৫ সালের দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকায়—
- ডেটা সায়েন্টিস্টের মাঝারি বেতন ১২০,২৩০ ডলার
- তথ্যনিরাপত্তা বিশ্লেষকের ১২৯,১৮০ ডলার
- নার্স প্র্যাকটিশনারের ১৩২,৩০০ ডলার
- মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারের ১২৩,৮৬০ ডলার
ছিল।
এগুলো জাতীয় মাঝারি বেতন এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির আয় নয়। আমেরিকা চাকরির বেতন: কোন পেশায় কত আয়, ২০২৬ সালের গাই
আমেরিকায় চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ইংরেজির গুরুত্ব
পেশাভেদে ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তা আলাদা হতে পারে।
গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, অফিস, ব্যবস্থাপনা বা প্রযুক্তিগত অনেক পেশায় ভালো যোগাযোগ দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে কিছু কাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারিগরি দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তাই চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজের ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নত করা দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসতে পারে।
আমেরিকায় চাকরির জন্য বাংলাদেশি অভিজ্ঞতা কি কাজে লাগে?
অনেক পেশায় পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা মূল্যবান হতে পারে। তবে সেই অভিজ্ঞতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা পেশা ও নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভর করে।
কিছু পেশায় বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন, লাইসেন্স বা অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে।
তাই বাংলাদেশে যে কাজ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে একই কাজ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পেশার যোগ্যতা ও লাইসেন্সের শর্ত আগে যাচাই করা ভালো।
আমেরিকায় চাকরি খোঁজার সময় কোন ভুলগুলো করবেন না?
কাজের অনুমতি না বুঝে চাকরি শুরু করবেন না
আপনার বৈধ কাজের অধিকার সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
ভুয়া অভিজ্ঞতা দেখাবেন না
চাকরি পাওয়ার জন্য মিথ্যা অভিজ্ঞতা বা ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করবেন না।
শুধু বেতন দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না
জীবনযাত্রার খরচ ও চাকরির সুবিধা হিসাব করুন।
লাইসেন্সের প্রয়োজন উপেক্ষা করবেন না
পেশাভেদে লাইসেন্স বা নির্দিষ্ট যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে।
চাকরির নামে টাকা দেওয়ার আগে সতর্ক থাকুন
নিয়োগের নামে কেউ অস্বাভাবিক টাকা চাইলে ভালোভাবে যাচাই করুন।
আমেরিকায় বাংলাদেশিদের চাকরি নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
আমেরিকায় বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে ভালো চাকরি কোনটি?
সবার জন্য একই উত্তর নেই। আপনার শিক্ষা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স ও বৈধ কাজের অনুমতির ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।
আমেরিকায় বাংলাদেশিদের জন্য কোন চাকরির চাহিদা বেশি?
বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা সরকারি চাহিদার তালিকা নেই। তবে জাতীয় শ্রমবাজারে স্বাস্থ্যসেবা, ডেটা, তথ্যনিরাপত্তা ও কিছু কারিগরি পেশায় দ্রুত প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
আমেরিকায় বাংলাদেশি অভিবাসীরা কি যেকোনো চাকরি করতে পারেন?
না। কাজের অধিকার আপনার অভিবাসন অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রয়োজন হলে Employment Authorization Document বা অন্য বৈধ কাজের অনুমতি লাগতে পারে।
আমেরিকায় কোন চাকরিতে বেতন বেশি?
উচ্চ দক্ষতার কিছু স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা পেশায় তুলনামূলকভাবে বেশি বেতন রয়েছে। তবে পেশা, অভিজ্ঞতা ও অবস্থান অনুযায়ী আয় পরিবর্তিত হয়।
আমেরিকায় নতুন বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি পাওয়া কি সহজ?
এটি ব্যক্তির দক্ষতা, কাজের অনুমতি, ইংরেজি, অভিজ্ঞতা, অবস্থান ও চাকরির বাজারের ওপর নির্ভর করে। সবার জন্য একই অভিজ্ঞতা হয় না।
আমেরিকায় বাংলাদেশিদের চাকরি: শেষ কথা
আমেরিকায় বাংলাদেশিদের চাকরি নিয়ে পরিকল্পনা করার সময় শুধু “কোন চাকরিতে সবচেয়ে বেশি টাকা?”—এই প্রশ্নে আটকে থাকা উচিত নয়।
নিজের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বৈধ কাজের অনুমতির সঙ্গে মার্কিন শ্রমবাজারের চাহিদা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বেশি বাস্তবসম্মত।
২০২৫–২০৩৫ সালের সরকারি পূর্বাভাসে স্বাস্থ্যসেবা, ডেটা, তথ্যনিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং কিছু কারিগরি পেশায় উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কর্মীরা সেবা, নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন, উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও পেশাগত বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন।
তাই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে নিজের দক্ষতা → কাজের অনুমতি → পেশার চাহিদা → সম্ভাব্য বেতন → জীবনযাত্রার খরচ—এই পাঁচটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করুন।
চাকরি ও অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট মার্কিন সরকারি উৎস থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

